Header Border

ঢাকা, রবিবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩০.৯৬°সে

সারাদেশে বেড়ে গেছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে বেড়ে গেছে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। আর মহামারি করোনা ঠাণ্ডাজনিত রোগের একইরকম লক্ষণ হওয়ায় আতংক-অস্বস্থি বেড়েছে মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে হাঁচিকাশি নিয়ে পড়তে হচ্ছে বিড়ম্বনায়। কি বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা ধর্মীয় উপসনালয় সবখানে হাঁচিকাশি নিয়ে আতংক। ভুক্তভোগীরা বলছেন, মহামারি করোনার মধ্যেও যাদের অফিস-আদালতে যেতে হচ্ছে; কর্মস্থলে দীর্ঘক্ষণ থাকতে হচ্ছে তাদের কারো ঠাণ্ডাজনিত হাঁচিকাশি-শ্বাস কষ্ট হলেই পড়তে হচ্ছে অস্বস্তিতে।
বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন  আহমেদ। হাঁচি-কাশি নিয়ে তার রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। তিনি জানান, প্রাইভেট কোম্পানিতে পাশাপাশি বসে কাজ করি। শীতে ঠাণ্ডা লাগায় হাঁচি কাশি শুরু হয়। এই হাঁচিকাশি নিয়ে অফিস কলিগদের মধ্যে শুরু হয় অস্বস্তি। অবশেষে করোনা টেস্ট  করে দেখি নেগেটিভ। অথচ অফিসের সবাই আমাকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে।
নিয়মিত মসজিদে নামাজ পড়ুয়াদের মধ্যেও রয়েছে একইরকম অভিজ্ঞতা। মসজিদের এক মুসল্লী সময় সংবাদ লাইভর সঙ্গে আলাপকালে জানান, নামাজের সময় অনেকেই ঠাণ্ডা পানি দিয়ে অজু করেন। তাদের অনেকের ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু হাঁচিকাশি শুরু হলেই দেখা দেয় সমস্যা। হাঁিচকাশি নিয়ে রাস্তাঘাট যানবাহন এমনকি বাসা বাড়িতেও অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে অনেকের।
এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় জেঁকে বসেছে শীত। শুষ্ক আর দমকা বাতাসে মানুষের মধ্যে ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রকোপ আরো বাড়ছে। শীতের এই সময়ে প্রায় সব বয়সের মানুষই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক হিসাব বলছে, শীতের কারণে ঠাণ্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন চার হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বয়স্কদের পাশাপাশি শীতের প্রভাবে বাদ পড়েনি শিশুরাও। এসময় নানা ধরণের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতের সময় দেখা যায় যে শিশুরা পোশাক ঠিক মতো পড়তে চায় না, কানটা হয়তো বাইরে থাকে, ঠাণ্ডা পানি খায়- ফলে রোগাক্রান্ত হয়ে পরে।এ সময় ঠাণ্ডা পানি ও ঠাণ্ডা বাতাসের সাথে খাপ-খাওয়াতে পারে না। তখন বাচ্চাদের টনসিল ফুলে যায়। শীতের সময় বাতাসে অনেক জীবাণু বেশি থাকে। বিশেষ করে ভাইরাস বেশি থাকে যা শ্বাস নালীর মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও মামসের মতো রোগের সৃষ্টি করে। অনেক সময় দেখা যায় যে, বাড়ির বড় কারো ঠাণ্ডা লাগলে তারা শিশুদের সামনে হাঁচি বা কাশি দেয়। একটা বড় মানুষের হাঁচিতে লক্ষ লক্ষ জীবাণু থাকে। যা বাচ্চাদের শ্বাসের মাধ্যমে ঢুকে তাদেরকে আক্রান্ত করে ফেলে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হেলেনা বেগম বলেন, “শীতের সময় এই রোগগুলো বেশি হয় কারণ কিছু কিছু ভাইরাস থাকে যা শুধু শীতের সময়েই মাল্টিপ্লাই হয় বা আক্রমণ করে। এছাড়া বাতাসও অনেক বেশি শুষ্ক থাকে। ফলে ইনহেলেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রে চলে যায়”।
স্বাস্থ্যবিদরা জানান, শীতের সময় কিছু রোগের প্রকোপ এমনিতেই বাড়ে। শীতের ঠাণ্ডা, শুষ্ক আবহাওয়া ও ধুলাবালির আক্রমণে অনেকে নাজেহাল হন। এদের যদি শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, জয়েন্ট পেন, সাইনোসাইটিস, নার্ভের সমস্যা থাকে তা আরও বেড়ে যায়। আবার শীতের সময় কিছু রোগের প্রকোপ এমনিতেই বাড়ে। তারা বলছেন, তাপমাত্রা ও বাতাসে ধুলাবালি বেশি থাকার কারণে শীতকালে অ্যাজমার প্রকোপ বেড়ে যায়। বাক্সবন্দি লেপ-কম্বল, বইয়ের সংস্পর্শে এলে হাঁচি শুরু হয়ে গিয়ে শ্বাসে সমস্যা হয়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ বালাই বেড়ে যায় শিশুদের। শ্বাসকষ্ট, সর্দি কাশি ও নিউমোনিয়া আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে যায় আগের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ। ঢাকা শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক রিজওয়ানুল আহসান বলেন, ‘শীত বাড়ার সাথে সাথে ঠাণ্ডা, জ্বর, কাশি, নিউমোনিয়া এবং কোল্ড ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
সারাদেশে শীতের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিভিন্ন রোগ। জ্বর-ঠাণ্ডা, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার পাশাপাশি শ্বাসতন্ত্রজনিত নানা রোগ বেড়ে গেছে। শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, অপেক্ষমাণ রোগীর দীর্ঘ লাইন। হাসপাতালের বহির্বিভাগেও দেখা যায় রোগী নিয়ে অপেক্ষা করছে স্বজনেরা। একই চিত্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালেও।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রাজেশ মজুমদার বলেন, ‘শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার পরে শিশুদের রোগ কিছুটা বেড়েছে। এদের বেশিরভাগের বয়স দুই বছরের মধ্যে। তবে ছয় মাস থেকে এক বছরের বয়সী বাচ্চার সংখ্যা বেশি। এই শিশুদের অনেকেই সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ব্রংকিউলাইটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত।
ঢামেকের বহির্বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক বলেন, ‘শুধুমাত্র শিশুরাই নয়, শ্বাসকষ্ট, ঠাণ্ডাজ্বর, কাশি নিয়ে অনেক রোগী আসছে যাদের বয়স ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। যে শীত পড়েছে, আরও কয়েকদিন স্থায়ী থাকলে রোগী বেড়ে যাবে।’
শিশু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রিজওয়ানুল বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে আগে প্রতিদিন গড়ে ১৫০-২০০ রোগী আসতো। কিন্তু শীতের প্রকোপ বাড়ার পরে গত দুইদিন প্রায় ৩০০-৩৫০ জন রোগী এসেছে। এদের বেশির ভাগই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। অনেকেই আসছে জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ডায়রিয়া (রোটা ভাইরাস) আক্রান্ত হয়েও অনেকে আসছেন। তাদের আমরা ওয়ার্ডে ভর্তি করাচ্ছি। এছাড়াও শ্বাসতন্ত্রজনিত বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি ব্রঙ্কাইটিস আক্রান্ত শিশুও পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের পাশাপাশি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে রোগীরা আসছেন হাসপাতালে। এছাড়াও নাক, কান ও গলার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা রোগীর সংখ্যাও কম নয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার
উপজেলায় এমপি মন্ত্রীর সন্তান-স্বজনরা প্রার্থী হলে ব্যবস্থা
সব বিরোধী দলের উপজেলা নির্বাচন বর্জন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আরও খবর