Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৭.৯৬°সে

অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

*সময় সংবাদ লাইভ রির্পোটঃ উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও অবিসংবাদিত জাতীয় নেতা  শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হকের ৫৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল মারা যান। এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনীতিক সংগঠনসহ সামাজিক সংগঠনের নেতারা বাণী দিয়েছেন।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর, যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, কলকাতা সিটি করপোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র এবং আইনসভার সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তার অবদান ছিল। ১৯৪০ সালে তিনি ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি ২১ দফা দাবিরও প্রণেতা ছিলেন। শিক্ষানুরাগী এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জীবন্ত প্রতীক হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় তার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
শেরেবাংলা ছিলেন সাহসী, জনদরদি ও অসাধারণ বাগ্মী নেতা। তিনি ছিলেন জোতদার মহাজনদের নির্মম শোষণ-অত্যাচারে জর্জরিত তদানীন্তন বাংলার কৃষক-প্রজা, দরিদ্র ও মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। সাধারণ মানুষের কল্যাণ সাধনই ছিল তার রাজনীতির মূল দর্শন। রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের কাছে শেরেবাংলা (বাংলার বাঘ) এবং ‘হক সাহেব’ নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
শেরেবাংলার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গণমাধ্যমে দেয়া বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের অবদানের কথা কোনোদিনই ভুলবার নয়। ঔপনিবেশিক শক্তির অমানবিক, অন্যায় ও চাপিয়ে দেয়া কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার সংগ্রামে তিনি বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে ইতিহাসে অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, এদেশের কৃষক সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে ঋণ সালিশী বোর্ড গঠন তার একটি যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তিনি ছিলেন বহুগুণে গুনান্বিত অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী একজন মহান ব্যক্তিত্ব। আমাদের জাতীয় ইতিহাসে তার অবদানের গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাধীকার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে তিনি এদেশের মানুষকে যে দীক্ষা দিয়েছিলেন সেটির পথ ধরে চলতে গিয়েই আমরা বিশ্বদরবারে এখন সাহসী জাতি হিসেবে বিবেচিত। দেশ এবং জাতির কল্যাণে অবদানের জন্য তিনি ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবেন। তিনি বলেন, আমি মহান নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের রূহের মাগফিরাত কামনা করি।
এদিকে শেরে বাংলা ছিলেন আমাদের বাঙালি জাতিসত্তা ও জাতীয়তাবাদের অগ্রনায়ক মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, তিনি এদেশের কৃষক-শ্রমিক মেহনতি মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতি করে গেছেন। যে কারণে তিনি ঋণ সালিশি বোর্ড গঠন করে কৃষক-প্রজার মুক্তি আনয়ন করেন। গতকাল গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বাণীতে তারা এসব কথা বলেন।
তারা বলেন, উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুনত্ব সৃষ্টি করেছেন শেরে বাংলা। তিনি বাঙালিদের জন্য শিক্ষার জাগরণ ঘটিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছেন। এখন সেই বাংলাদেশকে বিশ্বমানের উন্নত দেশ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়তে হবে। নেতৃদ্বয় বলেন, তিনি যেটা বিশ্বাস করতেন সেটা কার্যকর করতেন। নৈতিকতা, সততা ও মূল্যবোধকে ধারণের মাধ্যমে শেরেবাংলার আদর্শকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এদেশের শিক্ষা বিস্তারে সবচাইতে বেশি অবদান রাখেন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক। যে কারণে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ এদেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তার আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের সামনে আমাদের তুলে ধরা উচিত।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর