Header Border

ঢাকা, সোমবার, ১৫ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ২৮.৯৬°সে

অস্ট্রেলিয়াকে তুলোধুনো করে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ প্রথম তিন ওভারে ২৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন গতকালই অভিষেক হওয়া পেসার নাথান এলিস। শেষ ওভারে এসে ভাগ্য খুলে গেল। বাংলাদেশেরও রান বাড়ানোর তাড়া ছিল। সেই সুযোগে অভিষেকেই হ্যাটট্রিক (মাহমুদুল্লাহ, মোস্তাফিজ, মেহেদী) উইকেট তুলে নিয়ে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখালেন ২৬ বছর বয়সী অস্ট্রেলিয়ান পেসার। টি-২০ অভিষেকে ইতিহাসে এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। সবমিলিয়ে টি-২০ পরিসংখ্যানে ১৭তম হ্যাটট্রিকের মালিক এলিস। অন্যদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ফরম্যাটে কোনো বোলারের চতুর্থ হ্যাটট্রিক। তার এই ক্যারিশমায় নির্ধারিত ওভারে ৯ উইকেটে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশের বোলারদের নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে গুটিয়ে যায় ১১৭ রানে। ফলে ৫ ম্যাচের সিরিজে ৩-০তে সিরিজ জিতে লাল সবুজরা। এলিসের হ্যাটট্রিকও রুখতে পারেনি টাইগারদের।

বাংলাদেশ দল এখন পর্যন্ত ৩৩ টি-২০ সিরিজ খেলেছে। সেখানে জয়ের দেখা পেয়েছে মাত্র ৭টিতে। এর মধ্যে দেশের মাটিতে ১৫ সিরিজে টাইগারদের জয় ৪টিতে। সেখানে ২টিতে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। আর বাকি দুটি পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তাই এবার শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের জন্য অনন্য প্রাপ্তি। ৭ সিরিজ জয় থেকে ৮-এ উন্নীত হলো টাইগাররা। ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। মোস্ট ভ্যালুয়েবল খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমান।
১৫ বছর আগে আন্তর্জাতিক টি-২০ সিরিজ খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। তবে অজানা কারণে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় টি-২০ সিরিজ খেলেনি। এবার বাঘের ডেরায় এসে বড় দলের ক্ষমতা দেখিয়ে বাংলাদেশকে একের পর এক বায়ো বাবলের শর্ত জুড়ে দেয়। হোটেল থেকে শুরু করে মাঠের গ্যালারির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলেও ম্যাচে তাদের আসহায়ত্ব ফুটে উঠে। প্রথম ম্যাচে ২৩ রানে, পরের ম্যাচে ৭ উইকেটে আর গতকাল ১০ রানে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ।
সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে একাদশে পড় পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। ওপেনিংয়ে জশ ফিলিপির জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন বেন ম্যাকডারমট। মূল স্ট্রাইক বোলার মিচেল স্টার্ককে বিশ্রাম দিয়ে একাদশে আনা হয়েছে পেস বোলিং অলরাউন্ডার ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানকে। তাতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং শক্তি বাড়িয়েছে। অ্যান্ড্রু টাইয়ের পরিবর্তে অভিষেক হয়েছে পেসার নাথান এলিসের। শুরুতেই হ্যাটট্রিক করে বাজিমাত করেন।
টস জিতে মাহমুদুল্লাহ ব্যাটিং নিলে অস্ট্রেলিয়া বোলিং আক্রমণ শুরু করে অনিয়মিত বোলার অ্যাশটন টার্নারকে দিয়ে। ইনিংসের প্রথম ওভারে দুই দফায় (স্ট্যাম্পিং ও ক্যাচ মিস) অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েও থিতু হতে পারেননি সৌম্য সরকার। অবশেষে তৃতীয় ওভারে লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পার প্রথম বলটি সুইপ করার চেষ্টা করেন। বল আঘাত করে প্যাডে। অস্ট্রেলিয়ানদের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি ১১ বলে ২ রান করা সৌম্য। আগের দুই ম্যাচে করেছিলেন ২ ও ০। তার আগে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দিলেন জশ হেজেলউড। ২ বলে ১ রান করেই আউট হলেন নাঈম শেখ। আগের দুই ম্যাচে তার রান ৩০ ও ১।
দুই ওপেনারকে হারানোর পর পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারে অ্যাশটন অ্যাগারকে চার মেরে দলকে প্রথম বাউন্ডারি এনে দেন সাকিব আল হাসান। রানের গতিতে মাত্রই দম দিতে শুরু করেছিলেন সাকিব। কিন্তু তাকে থামতে হলো বড় শটের চেষ্টায়। আক্রমণে ফিরে দলকে উইকেট এনে দিলেন অ্যাডাম জ্যাম্পা। তার ঝুলিয়ে দেয়া বল হাঁটু গেড়ে সোজা ব্যাটে উড়িয়ে মারেন সাকিব। লং অফ থেকে সামনে এগিয়ে ক্যাচ নেন অ্যাগার। ১৭ বলে ২৬ রান করে বিদায় নেন সাকিব। মাহমুদুল্লাহর সঙ্গে তার জুটি থামে ২৬ বলে ৪৪ রানে। দলীয় রান তখন ৮.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৪৭।
আগের দুই ম্যাচে দুটি কার্যকর ইনিংস খেলা আফিফ হোসেন ধ্রুব এবারও দারুণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাকে থামতে হয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ একটি সিঙ্গেলের চেষ্টায় রান আউট হয়ে। অ্যাগারকে ছক্কা হাঁকানোর পর আফিফ পরের ওভারে ন্যাথন এলিসকে মারেন চার। গতি পায় বাংলাদেশের ইনিংস। ড্যানিয়েল ক্রিস্টিয়ানের বল কাভারে পাঠিয়েই রানের জন্য ছুটেন আফিফ। ঝাঁপিয়ে বল মুঠোয় নিয়ে সরাসরি থ্রোয়ে বেলস ফেলে দেন কেয়ারি। ১৩ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ১৯ রান করেন আফিফ।
নুরুল হাসান সোহানের ওপরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারলেন না শামীম হোসেন। হেজেলউডের বলে ক্রস ব্যাটে খেলে আউট হলেন তিনি ৮ বলে ৩ রান করে। অস্ট্রেলিয়ানদের দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ের শিকার বাংলাদেশের আরেক ব্যাটসম্যান। আত্মবিশ্বাসী সোহান জ্যাম্পাকে জায়গায় দাঁড়িয়ে ছক্কাও মারেন। ক্রিস্টিয়ানের বলে আলতো ড্রাইভ করে রান নিতে ছোটেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু বল সরাসরি যায় কাভার ফিল্ডারের দিকে। সেটা দেখে একটু থমকে যান সোহান। পরে মাহমুদুল্লাহর ডাকে সাড়া দিতে ছোটেন আবারও। কিন্তু কাভার থেকে সরাসরি থ্রোয়ে স্টাম্পে লাগান হেনরিকস। ৫ বলে ১১ করে আউট সোহান।
ন্যাথান এলিসের স্লোয়ার ডেলিভারিতে দারুণ শটে চার মেরে মাহমুদুল্লাহ স্পর্শ করলেন ফিফটি। ৫২ বলে এলো তার পঞ্চাশ। টি২০তে এটি তার পঞ্চম ফিফটি, অধিনায়ক হিসেবে ২০ ম্যাচে প্রথম। ফিফটির পরের বলেই আউট এই অধিনায়ক। ১৯.৪ ওভারে অভিষিক্ত ন্যাথান এলিস পেলেন প্রথম উইকেট। ১৯.৫ ওভারে মোস্তাফিজকে (০) মার্শের ক্যাচ বানিয়ে এবং শেষ বলে মেহেদীকে (৬) অ্যাগারের ক্যাচ বানিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন অভিষিক্ত এলিস। হ্যাজেলউড ও জাম্পা দুটি করে উইকেট নেন। তাতেই বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৯ উইকেটে ১২৭ রানে।
১২৮ রানের টার্গেটে জশ ফিলিপি না থাকায় অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটিতে একাদশে আসা বেন ম্যাকডরমেটের সাথে ইনিংস শুরু করেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। আগের দুই ম্যাচে মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন ওয়েড। প্রথম ম্যাচে যেভাবে ম্যাথু ওয়েডকে আউট করেছিলেন নাসুম আহমেদ, অনেকটা একইভাবে আবার ফেরালেন ওয়েডকে। দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেট পেলো বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে লেগ স্টাম্পের শর্ট বলে বাজে শটে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়েছিলেন ওয়েড। এবারে মিডল স্টাম্পের বল ওয়েড শরীর ঘুরিয়ে পুল করার চেষ্টা করে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে। ৫ বলে ১ রান করেন তিনি।
আগে দুই ম্যাচে সমান ৪৫ করে রান করা মিচেল মার্শকে সাকিব আল হাসানের বলে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা। তবে রিভিউ নিয়ে টিকে রইলেন মার্শ। ডরমেটকে সাথে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি গড়েন। ১২.১ ওভারে মোস্তাফিজের বলে সহজ ক্যাচটি মিস করেন শরিফুল। ম্যাক ডরমেট তখন ছিলেন ৩২ রানে। পরের ওভারে ৪১ বলে ২ ছক্কায় ৩৫ রান করা ডরমেটকে বোল্ড করেন সাকিব। ময়েসেস হেনরিকস (২) এসে সুবিধা করতে পারেননি। শরিফুলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে শামিম হোসেনের তালুবন্দী হন।
শরিফুলের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন অস্ট্র্রেলিয়াকে এগিয়ে নেয়া মার্শ। নাঈমকে ক্যাচ দেয়ার আগে ৪৭ বলে ৬ চার ও এক ছক্কায় ৫১ রান করেন তিনি। তখন অস্ট্র্রেলিয়ার জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৭ বলে ৩৩ রান। ক্রিজে এসেই দুটি চার মারেন ক্যারি ও ক্রিশ্চিয়ান। ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন মোস্তাফিজ। তার শেষ ওভারে মাত্র ১ রান দেন। সফরকারীদের জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন হয় ২২ রানের। মেহেদীর শেষ ওভারে প্রথম বলে দিলেন ৬, দ্বিতীয় বলে ১, তৃতীয় বলে ডট, চতুর্থ বলটি নো ২+১, পঞ্চম বলে ডট, ষষ্ঠ বলে ১ রান দিলে ৪ উইকেটে ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ১০ রানে জয় নিয়ে সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ইনিংস : ১২৭/৯ (সাকিব ২৬, মাহমুদুল্লাহ ৫২, আফিফ ১৯, সোহান ১১, হেজেলউড ২/১৬, জ্যাম্পা ২/২৪, এলিস ৩/৩৪)।
অস্ট্রেলিয়া ইনিংস : (ম্যাক ডরমেট ৩৫, মার্শ ৫১, ক্যারি ২০*, ক্রিশ্চিয়ান ৭* শরিফুল ২/২৯, নাসুম ১/১৯, মোস্তাফিজ ০/৯ )।
ফল : বাংলাদেশ ১০ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মাহমুদুল্লাহ।
সিরিজ : ৩-০ তে বাংলাদেশের সিরিজ জয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ঈদ জামাত কোথায় কখন
‘পৃথিবীর কোনো শক্তিই আমাদের বিরত রাখতে পারবে না’-নেতানিয়াহু
দেশের আকাশে চাঁদ দেখা যায়নি, বৃহস্পতিবার ঈদ
রাজউকের নতুন চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব.)সিদ্দিকুর রহমান
চালের দাম বাড়ছে : সবজির দাম কমলেও বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে মুরগি
ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ করবে বিএনপি

আরও খবর