Header Border

ঢাকা, শুক্রবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ২৯.৯৬°সে

ঘাটতি পূরণে ধারদেনা করব -পরিকল্পনামন্ত্রী॥আমরা ঋণ নেবো না ঋণ দেবো -অর্থমন্ত্রী ॥

*সময় সংবাদ লাইভ রির্পোটঃ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন,ভারতসহ অন্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ঋণ দেওয়ার সময় এসে গেছে। আমরা ঋণ নেবো না, ঋণ দেবো।  এদিকে পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেছেন, ঘাটতি পূরণে আমরা ধারদেনা করব। আমাদের ধারের বাজার ভালো। ধার পরিশোধের রেকর্ডও ভালো। সবাই আমাদের ধার দিতে চায়।
গতকাল শুক্রবার বিকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব তথ্য জানান। ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলনে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম যুক্ত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে সব তথ্য আসেনি। অপ্রদর্শিত অর্থ মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ আমরা দিয়েছিলাম, সেই সুযোগ কত জন নিলো। সে সম্পর্কে আমার কাছে শতভাগ তথ্য এসে পৌঁছায়নি। উল্লেখ্য, সরকার উৎস সম্পর্কে কোনও জিজ্ঞাসা ছাড়াই চলতি অর্থবছরে কালো টাকা সাদা করার যে সুযোগ দিয়েছিল, ২০২১-২২ অর্থবছরে সেই সুযোগ আর  থাকছে কিনা সে সম্পর্কে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী কিছুই বলেননি। কালো টাকা বৈধকরণের যে সুযোগ, যেটির আওতায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে প্রায় ১৪ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা সাদা করার রেকর্ড হয়েছে, এই মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হবে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আগামীতে থাকছে কিনা এ বিষয়ে আরও কিছু দিন ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানিয়েছেন । তিনি বলেন, এর পক্ষে এবং বিপক্ষে নানা ধরনের অভিমত রয়েছে।
তবে অপ্রকাশিত আয়ের মাধ্যমে এলাকা এবং সম্পত্তির অবস্থানের ওপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর প্রদানের মাধ্যমে বাড়ি, জমি, ভবন বা ফ্ল্যাট কেনার যে সুযোগ, তা বিদ্যমান থাকবে। কিন্তু সরকারি সংস্থা তহবিলের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারবে। করদাতাদের সম্পত্তির প্রতি বর্গফুটের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে কর প্রদানের মাধ্যমে বাড়ি, জমি, ভবন বা ফ্ল্যাটসহ যেকোনও প্রকারের অপ্রকাশিত সম্পত্তি প্রকাশ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। জনগণ ১০ শতাংশ কর প্রদান করে অপ্রকাশিত নগদ, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনও সুরক্ষা সম্পত্তি প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছিল। কমপক্ষে এক বছরের জন্য বিনিয়োগ মূল্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর প্রদান করে এবং তাদের ট্যাক্স রিটার্নে বিনিয়োগ দেখানোর মাধ্যমে জনগণকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।
কালো টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে সৃষ্টি হয়, আর অপ্রদর্শিত টাকাটা আমাদের সিস্টেমের কারণে সৃষ্টি হয়। ট্যাক্সের টার্গেট করা হয় ৫০ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ। এটা অনেক অন্যায় করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের সাথে। এখানে কোনো এক সময় ছিল সুপার ইনকাম ট্যাক্স, যারা বেশি ইনকাম করবে তাদের আরও বেশি ট্যাক্স দিতে হবে। অথচ উল্টোটা হওয়া উচিত ছিল।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, বিদায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম ১০ মাসে অপ্রকাশিত সম্পদের ওপরে ১৪ হাজার ৪৫৯ দশমিক চার কোটি টাকা বৈধ করা হয়েছে। এই সময়ে ১০ হাজার ৪০৪ জন লোক সম্পদ বৈধ করার জন্য মোট এক হাজার ৪৪৫ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা কর দিয়েছেন। তথ্য অনুসারে, ১৯৭১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অপ্রকাশিত আয়ের প্রায় ৩০ হাজার ৮২৪ কোটি টাকার হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে, যা থেকে প্রায় তিন হাজার ৯০০ কোটি টাকা কর আদায় হয়েছে।
অপ্রকাশিত আয়ের মধ্যে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সালে দুই দশমিক ২৫ কোটি টাকা, ১৯৭৬ থেকে ১৯৮০ সালে ৫০ দশমিক ৭৬ কোটি টাকা, ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সালে ৪৫ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সালে ১৫০ দশমিক ৭৯ কোটি টাকা, ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সালে ৯৫০ দশমিক ৪১ কোটি টাকা, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে ৮২৭ দশমিক ৭৪ কোটি টাকা, ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালে এক হাজার ৬৮২ দশমিক ৯৯ কোটি টাকা, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালে এক হাজার ৮০৫ দশমিক শূন্য এক কোটি টাকা এবং ২০১৩ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১১ হাজার ১০৭ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা প্রকাশ করা হয়েছে।
বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, বাজেটে কর্মসংস্থানের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে। বাজেটের পুরোটাই হলো ব্যবসায়ী বান্ধব। আমি মনে করি, যে বাজেট ব্যবসায়ী বান্ধব হলেই ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেবেন। আর ব্যবসায়ীরা সুযোগ নেয়ার মানে হচ্ছে উৎপাদনে যাওয়া। সেই উৎপাদনটি ঘটাবে আমাদের দেশের জনগোষ্ঠী। মানুষের কর্মসংস্থান না করা হলে কিভাবে তারা এগুলো করবেন? সেজন্য আমরা মনে করি, ব্যবসায়ীরাই এ কাজটি করবেন। সেজন্য ব্যবসায়ীদের আমরা সুযোগ দিয়েছি, আমরা কমিটেড।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আমরা “ মেড ইন বাংলাদেশ” ট্যাগ লাইনটা ব্যবহার করতে চাই। আমাদের দেশীয় প্রোডাক্ট যেগুলোকে বাড়তি সুযোগ দেয়া হয়েছে। তবে বাজেটে যা দেখেছেন সেটাই যে থাকবে তা নয়, আমরা কিছু ফ্লেক্সিবল থাকব। আমরা আরও পরিবর্তন করব, কখনো বাড়াবো না। আমরা সবসময় প্রয়োজনে ট্যাক্স, ভ্যাট কমাবো।
তিনি আরও বলেন, যারা সীমিত সম্পদকে এক্সপ্লয়েড করে ম্যাক্সিমাম আয় করবে তাদেরকে বেশি করে সুযোগ করে দেয়া উচিত ছিল। সেটা না করে যারা বেশি আয় করেছিল তাদের আরও বেশি চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, এটা ঠিক না। সেজন্য আমরা এই বিষয়গুলো দেখে যতটা সম্ভব হয়েছে এই বাজেটে খোলামেলাভাবে সুন্দর ও সহজ করে আরও সার্বজনীন করার চেষ্টা করেছি।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, মহামারিকালে নতুন অর্থবছরের জন্য রেকর্ড ঘাটতি রেখে বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। মোট বাজেটের মধ্যে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা তিনি রাজস্ব খাত থেকে যোগান দেয়ার পরিকল্পনা সাজিয়েছেন, যা বাস্তবায়ন করা হবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট হতেই পারে, এটি নতুন নয়।
মন্ত্রী বলেন, ঘাটতি বাজেট নতুন নয়, আমরা উন্নয়নশীল দেশ, ঘাটতি বাজেট হবে। তবে সংশয় আছে ঘাটতির পরিমাণ নিয়ে। তবে আমি কনফিডেন্ট, অর্থমন্ত্রী এটিকে মোকাবিলা করতে পারবেন। আমরা একটি অনুমানের জগতে আছি। সেটাকে নিয়ে তর্ক করে কোনো লাভ হবে না।
তিনি আরও বলেন, অর্থের জোগান দেয়া অন্যতম একটি বিষয়। যারা বাইরে থেকে আমাদের ধার দেবে, তাদের বাজার বেশ ভালো। বিদেশ থেকে যারা ধার দেয় তাদের কথাবার্তা ও আচরণে সেটি আমরা দেখেছি। আমাদের রেকর্ডও ভালো। আমরা সে ধরনের গ্রাহক নই। কোনো সময় আমরা এগুলো মিস করিনি। আমরা সবকিছু পজিটিভলি করেছি বলেই পজিটিভলি গ্রোথ ধরে রাখতে পেরেছি। মাথাপিছু আয় করোনার মধ্যেও আমাদের ২৩০০ ডলারের কাছাকাছি।
এবারের বাজেটে প্রাধিকার পেয়েছে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ শিরোনামের এবারের বাজেটটি করা হয়েছে সরকারের অতীতের অর্জন এবং বর্তমান পরিস্থিতির সমন্বয়ে। বাজেটে সঙ্গত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতে।
পাশাপাশি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের বাস্তবায়ন, কৃষিখাত, খাদ্য উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অর্থবছরের পুরো সময় জুড়েই থাকবে সরকারের নানা ধরনের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, বাড়ানো হবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার
উপজেলায় এমপি মন্ত্রীর সন্তান-স্বজনরা প্রার্থী হলে ব্যবস্থা
সব বিরোধী দলের উপজেলা নির্বাচন বর্জন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আরও খবর