Header Border

ঢাকা, শনিবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩২.৯৬°সে

কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই ক্রমেই বাড়ছে বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা

আলমগীর পারভেজ:  রাজধানীর অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক সব জায়গায় কারণে-অকারণে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই লোকজনের বাইরে বের হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। পাড়া-মহল্লা-বাজার এলাকায় রীতিমতো আড্ডায় মাতে মানুষ। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না অনেকেই। যদিও বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কেউ নিয়ম না মানলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়াও হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে অনেকেই বিনা কারণে ঘর থেকে বের হয়েছেন। অনেকে মাস্ক পরছেন না, কেউবা ঝুলিয়ে রাখছেন থুতনিতে কিংবা হাতে। কাঁচাবাজারে দেখা যায়, মানুষের প্রচণ্ড ভিড়। কেউ ভিড় করে সবজি কিনছেন। কেউ বিনা কারণে ঘোরাঘুরি করছেন। অধিকাংশের মুখে মাস্ক দেখা যায়নি। সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু-কিশোর-তরুণ-বৃদ্ধ সব বয়সিদের রীতিমতো আড্ডা চলে। অনেককে দেখা গেছে চেয়ার নিয়েও বসে থাকতে। পাশের চায়ের দোকানে অর্ধেক শাটার নামিয়ে চা বিক্রি করতেও দেখা যায়।
মগবাজার পেয়ারাবাগ এলাকায় কথা হয় সাজ্জাদ নামের এক তরুণের সঙ্গে। সাজ্জাদ বলেন, গাড়িতে হেলপারি করতাম। এহোন তো গাড়ি বন্ধ। ঘরে থাকতে মন চাইছিলো না। তাই একটু হাওয়া খাইতে বাইর অইছি।
বাজার করে ফিরছিলেন গ্রিণওয়ের বাসিন্দা  হোসাইন। তিনি বললেন, রাস্তায় আজ লোকজন একটু বেশি। দেখে মনে হলো বেশিরভাগই লোকজনই অকারণে হাঁটাহাঁটি করছেন। রিকশাচালক ইমরান বলেন, ঈদে বাড়িতে গেছিলাম। পরশুদিন গাবতলী থেকে হেঁটে এসেছি।
প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহন না চললেও রিকশা, মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত পরিবহন সবই চলছে। কঠোর লকডাউনের তৃতীয় দিনে রাজধানীতে ফিরছে অনেকেই। গতকাল দুপুরে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে বিজিবির তত্ত্বাবধানে মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় মাস্ক না পরা ও বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হয়ে লকডাউনের আইন অমান্য করায় ২২ জনকে জরিমানা করা হয়।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছেন, মানুষকে কিছুতেই স্বাস্থ্যবিধি মানানো যাচ্ছে না। একধরনের লোক স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। সে কারণে লকডাউন কঠিন করা দরকার। এই শ্রেণির মানুষ কোনোভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। মনে করছেন, অন্যদের হবে, তাদের হবে না। এটাই সমস্যা। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না, তারাই সংক্রমিত হচ্ছেন। এমনকি এই শ্রেণির মানুষ বাসার লোকজনদেরও আক্রান্ত করছেন। তার যখন অবস্থা ক্রিটিক্যাল হচ্ছে, তখন টেস্ট করলে দেখা যাচ্ছে বাসার সবাই করোনা পজিটিভ।
করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দুই সপ্তাহের এই বিধিনিষেধ কষ্ট করে হলেও সবাইকে মানতে হবে বলে মনে করছেন সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, চলমান বিধিনিষেধ কষ্ট করে হলেও মানতেই হবে। কারণ এখন ডেঞ্জার লেভেলের অনেক ওপরে আছি। সংক্রমণ হার ৫ শতাংশের নিচে নামতে হবে ও মৃত্যু দৈনিক ৫০ জনের নিচে নামতে হবে। তা না হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে না। এখন যদি বিধিনিষেধ মানি, তারপরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে ১৪ দিনের বেশি লাগতে পারে।
মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড ও শংকর বাস স্ট্যান্ডে দেখা গেছে কয়েকজন ব্যক্তি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছেন। বিধিনিষেধে মোটরসাইকেলে দুইজন চলাচল নিষেধ, তবুও কি করে যাত্রী পরিবহন করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক মিজান বলেন, ভাই, সব কিছু সিস্টেমে চলে। চেকপোস্টের আগে আমরা যাত্রীদের নামিয়ে দেই। আবার চেকপোস্ট পার হয়ে তাদের তুলি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে চেকপোস্টের এড়িয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে যাই। আমাদের সঙ্গে পেট আছে, পুলিশ তো আমাদের খাবার দিচ্ছে না। নিজের খাবারটা নিজেকে জোগাড় করে খেতে হচ্ছে। তাই ফাঁকি দিয়ে হলেও নিজের পেট চালানোর চেষ্টা করছি।
চেকপোস্টগুলোতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা বলছেন, সবাই কাজে যাচ্ছে। আমরা ১০০ গাড়ি থামালেও কাউকে আটকাতে পারছি না। গাড়ি ইশারা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির গ্লাস নামিয়ে কেউ বলেন ব্যাংকে যাচ্ছি, হাসপাতালে যাচ্ছি, টিকা দিতে যাচ্ছিসহ নানা বিষয়। কাউকে আটকে রাখার সুযোগ নেই। প্রথম দিন আমরা ডাক্তার বা হাসপাতাল রিলেটেড ছাড়া কাউকে যেতে দেইনি। আর আজ যুক্ত হয়েছে ব্যাংক। নিশ্চয়ই একদিন পরে আরও কোনো না কোনো কিছু যুক্ত হবে এই কাতারে। এভাবেই বাড়তেই থাকবে রাস্তাঘাটে গাড়ি ও মানুষের সংখ্যা।
রাসেল স্কয়ার মোড়ে দায়িত্ব পালন করা ধানমন্ডি ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মোহাম্মদ সাদ্দাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আজ ব্যাংক খোলা, রাস্তায় অনেক গাড়ি। প্রতিটি গাড়িতে থাকা মানুষ কোনো না কোনো কাজে যাচ্ছে। ডাক্তার, নার্সরা তো আছেনই, এর বাইরে কেউ হাসপাতালে রোগী দেখতে, খাবার দিতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে কেউ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বা উঠাতে যাচ্ছে। শত মানুষ শত কাজে বের হয়েছেন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে তৃতীয় দিনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ৫৮৭ জন। ২৩৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ ৯৫০ টাকা। এছাড়া ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ৫২১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা। তিন দিনে রাজধানীতে মোট গ্রেফতার হলেন ১ হাজার ৩৭৩ জন।
রোববার (২৫ জুলাই) দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে তৃতীয় দিনে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয় ডিএমপির আটটি বিভাগ। এসব তথ্য জানান ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম।
তিনি বলেন, লকডাউনের তৃতীয় দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপির আটটি বিভাগের রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা এলাকায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে বাইরে বের হওয়ায় ৫৮৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। লকডাউনে সড়কে যানবাহন নিয়ে বের হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্রাফিক বিভাগ ৫২১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, সরকার করোনার সংক্রমণরোধে দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ নিশ্চিতে তৃতীয় দিনে রাজধানীজুড়ে সক্রিয় আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাজধানীতে সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অকারণে ও নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হওয়ায় ও লকডাউনেও প্রতিষ্ঠান খোলা রাখায় ২৩৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৯৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার
উপজেলায় এমপি মন্ত্রীর সন্তান-স্বজনরা প্রার্থী হলে ব্যবস্থা
সব বিরোধী দলের উপজেলা নির্বাচন বর্জন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আরও খবর