Header Border

ঢাকা, শনিবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩১.৯৬°সে

নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে কর প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আলমগীর পারভেজ:  অনলাইনে ক্লাস পরীক্ষা চললেও তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।উচ্চ শিক্ষাসহ গোটা শিক্ষাঙ্গন ১৫ মাস যাবত বন্ধ রয়েছে। সামাজিকভাবে, আর্থিকভাবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এরই মাঝে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। শুধু তা-ই নয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বেসরকারি কলেজ, পলিটেকনিক ও মেডিকেল কলেজ। বাজেট উত্থাপনের পর থেকেই এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকদের সংগঠন। তারা বলছেন, এতে উচ্চ শিক্ষা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তেমনি বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী এই কর নেয়া বৈধ নয় বলেও মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১৫ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারনে করারোপ করা থেকে ফিরে আসে সরকার। সরকার তার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে না আসলে আবারো আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
২০১৫-১৬ অর্থবছরের খসড়া বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর ১০ শতাংশ মূসক চালুর প্রস্তাব করা হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। প্রথমে রাজধানী, পরে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে সেই আন্দোলন। একপর্যায়ে ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ করার প্রস্তাব দিলেও আন্দোলন থামেনি। বাধ্য হয়ে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রযোজ্য সাধারণ কর হার হ্রাস করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা কেবল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজ থেকে আয়ের ১৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণ করা হয়েছিল। সংসদে আমি এ করহার অর্থ আইনের মাধ্যমে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করছি।
নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ ব্যানারে কর প্রত্যাহারসহ ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনেরও হুমকি দেন তারা। ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ছাত্র মুক্ত রেজো। তিনি বলেন, সরকার আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এ কর আরোপ করতে যাচ্ছে। কারণ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। তাহলে কর দেবে কোন খাত থেকে? যদি তা-ই হয় তাহলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিশ্চয়ই আয় বা লাভ করে। সেই আয়-ব্যয়ের হিসাব বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন- ইউজিসিকে নিতে হবে। অন্যথায় আমরা ধরে নেব, মালিকরা মুনাফা করে। সেটার বৈধতা দিতেই এ উদ্যোগ।
এই ১৫ শতাংশ করারোপ ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন’ পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। সংগঠনটি  প্রস্তাবিত বাজেটে ১৫ শতাংশ কর আরোপ প্রত্যাহার চেয়ে অস্তিত্ব সঙ্কটে থাকা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ট্রাস্টের অধীনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত। আর ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান করযোগ্য নয়। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটে যে কর আরোপের কথা বলা হয়েছে, তা আইনসিদ্ধ হয়নি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আদায়ে আগে থেকেই আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরই মাঝে ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। যদিও আদালতের নির্দেশনা অনুসারে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত করারোপের সুযোগ নেই বলেই মত আইনজ্ঞদের।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মজিদ বলেন, এতদিন এনবিআর এসআরও জারি করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে কর নেয়ার চেষ্টা করতো। ওই এসআরও যে কোনও সময় বাতিল বা সংশোধন করা যেত। এবার জাতীয় সংসদে যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা যদি পাস হয়, তবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাধ্যতামূলক আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হবে। মো. আব্দুল মজিদ মনে করেন, অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে সংসদীয় কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষা কোনো ব্যবসা নয়। এটি সামাজিক সেবা। এখানে কর আরোপ অযৌক্তিক। এছাড়া আইনও সেটি সমর্থন করে না। এটি চালু হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষার মান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০১৫ সালে সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তা প্রত্যাহার করা হয়। ওই সময় সরকারের যুক্তি ছিল, আরোপিত ভ্যাট মালিককে দিতে হবে। আমার প্রশ্ন হলো, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এখানে তো লাভ হওয়ার কথা নয়। তাহলে কর দেবে কোথা থেকে? এটি সাংঘর্ষিক হবে। শেষ পর্যন্ত এটি  শিক্ষার্থীদের ওপর বর্তাবে এবং বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষার ব্যয় আরও বাড়বে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার
উপজেলায় এমপি মন্ত্রীর সন্তান-স্বজনরা প্রার্থী হলে ব্যবস্থা
সব বিরোধী দলের উপজেলা নির্বাচন বর্জন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আরও খবর