Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

‘গণতান্ত্রিক’ ধারায় আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বিএনপি

সময় সংবাদ রিপোর্টঃ ‘গণতান্ত্রিক’ ধারা বজায় রেখে আন্দোলন অব্যাহত রাখবে বিএনপি। এই আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চায় দলটি। গত শনিবার ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে ‘গণসমাবেশ কর্মসূচি’ শেষে দলটির নেতাদের এমন চিন্তাভাবনার কথা জানা গেছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ঢাকায় গণসমাবেশ থেকে মহানগর ও জেলাপর্যায়ে ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।

২৪ ডিসেম্বর যুগপৎ কর্মসূচি হিসেবে গণমিছিল শেষ করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্র্ধারণ করা হবে। গণতান্ত্রিক ধারায় কঠোর কর্মসূচিও দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

আগামী দিনের কর্মপন্থা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা শনিবার রাজধানীর গোলাপবাগের মাঠে জনসমুদ্রের মতো গণসমাবেশে দাঁড়িয়ে জাতির সামনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ১০ দফা ঘোষণা করেছি। দেশের মানুষও আমাদের ১০ দফাকে সমর্থন করেছে। এ অবস্থায় চলমান গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রেখেই আমরা সরকারের পতন ঘটাব। দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে- কোনোভাবেই সরকার বা কোনো গোষ্ঠীর পাতা ফাঁদে যেন ভুল করে পা না দিই; যেন হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করি।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দশটি বিভাগীয় গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে দেশে ও বিদেশে সবার কাছে একটি বার্তা গেছে। বিএনপির শান্তিপূর্ণ এ কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা ছিল লক্ষণীয়। এটিকে বিএনপি বড় সফলতা হিসেবে দেখছে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের উপলব্ধি- তাদের দশ বিভাগীয় গণসমাবেশে যাতে সাধারণ মানুষ অংশ নিতে না পারে, সে জন্য গণপরিবহন ধর্মঘট ছাড়াও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল। ৭ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের ‘হামলা’, একজনের মৃত্যু, রুহুল কবির রিজভীসহ সাড়ে চারশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার, পরের দিন গভীর রাতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার- এসবই করা হয়েছিল গণসমাবেশ যাতে চূড়ান্তভাবে সফল না হয় এ জন্য। কিন্তু এত সব কিছুর পরও গোলাপবাগে শান্তিপূর্ণ বড় গণসমাবেশ করে দলটি।

এসব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশ করতে পারায় নেতাকর্মীদের মাঝে আন্দোলনমুখী মানসিকতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করে বিএনপি। এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ অবস্থায় আরও সিনিয়র নেতাদেরও গ্রেপ্তার করা হলেও আন্দোলনে কোনো প্রভাব পড়বে না। আন্দোলন যেখানে গেছে, তাতে তারেক রহমানের নির্দেশনায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরাই তা সফল করবে।’

কয়েক মাস আগেও সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল- বিএনপিকে দিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম হবে না। কিন্তু বিভাগীয় গণসমাবেশের পর বিএনপির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরেছে বলে মনে করেন বিএনপির নেতারা। এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দশ বিভাগে শান্তিপূর্ণ গণসমাবেশের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে- বিএনপি আগুন-সন্ত্রাসের বিশ্বাসী দল নয়। দেশে-বিদেশে যে তকমা বিএনপির ওপর ছিল তা কেটে গেছে।

গত ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশ বিশ্লেষণ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশের জন্য আমি প্রধান দুটি দলকে অভিনন্দন জানাই, কেউ-ই সীমা অতিক্রম না করার জন্য। বিরোধী দলের কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা বা আইন ভঙ্গের খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষমতাশীন দলও কোনো বাধা দেয়নি। আমি মনে করি, এই চর্চাটাই জরুরি। আমি আগেও বলেছি, কোনো না কোনো একসময় শৃঙ্খলার ভেতর আসতে হবে। আগে তো আমরা অনেক কিছুই (খারাপ রাজনৈতিক চর্চা) করেছি, তাই বলে আমরা সারাজীবন কি করব?’ তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে বিএনপি শেষ পর্যন্ত একটা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছে, আমি মনে করি এটি শুভবুদ্ধির পরিচয়। সরকারি দলের পক্ষ থেকেও বিরোধী দলের অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে কোনো বাধাবিঘœ তৈরি করা হয়নি। আমি এখনো মনে করি, মতাদর্শ যাই হোক, লোকে যদি কাউকে পছন্দ করে, সেটি সরকারি বা বিরোধী দল যেই হোক এবং তারা যদি জনগণের আস্থায় থাকে, তা হলে তাদের অধিকারগুলো তারা যেমন করেই হোক চর্চা করবে।’

বিএনপির ১০ দফা সম্পর্কে ড. শান্তনু মজুমদার বলেন, ১০ দফার মধ্যে শেষের যে চার-পাঁচটি দফা রয়েছে, সেগুলো আমার কাছে মনে হয়েছে নিয়ম রক্ষার জন্য। তাদের মূল দফা আসলে একটি। সেটি হচ্ছে- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নিবার্চন। আমার কাছে মনে হয়েছে, অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে তাদের পুরনো যে দাবি, সেই অবস্থান তারা নতুন করে জানান দিয়েছে। এই ১০ দফার মধ্যে আমি সেই অর্থে অচিন্তনীয় কিছু দেখি না।’

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর