Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

নানা উদ্যোগে বিদেশী বিনিয়োগের খরা কাটছে না

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ  সরকার বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলার ঘোষণা দিলেও সুখবর নেই। নানা উদ্যোগে বিদেশী বিনিয়োগের খরা কাটছে না। করোনা ভাইরাস মহামারির ধাক্কায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশের মত বাংলাদেশেও বিদেশী বিনিয়োগ আশঙ্কাজনক হারে কমছে। দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে হলে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে ব্যাপক হারে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। তা না হলে দেশে বেকারত্ব বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বশেষ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৭২ কোটি ডলারের সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩১ শতাংশ কম। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ১০৪ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল বাংলাদেশ। বিনিয়োগ না বাড়লে দেশে বেকারত্ব আরও বেড়ে যাবে। যা অর্থনীতির জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এই চার মাসে নিট এফডিআই কমেছে আরও বেশি, ৫০ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ সময়ে মাত্র ১৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের নিট এফডিআই পেয়েছে বাংলাদেশে। গত বছরের একই সময়ে তা ৩০ কোটি ৭০ লাখ ডলার ছিল।
বিভিন্ন খাতে মোট যে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আসে, তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ দেশে নিয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট অংককে নিট এফডিআই বলা হয়। জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে যে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) এসেছে, চলে গেছে তার চেয়ে বেশি।
এই চার মাসে পুঁজিবাজারে মোট যে বিনিয়োগ হয়েছে, তার চেয়ে ১৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেশি দেশে নিয়ে গেছেন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। অর্থাৎ, নিট এফডিআই দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক । ২০১৯-২০ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে ৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের নিট বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল পুঁজিবাজারে।
বিদেশি বিনিয়োগের এই নাজুক অবস্থার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, এই মহামারীতে সব দেশেই বিনিয়োগে খরা চলছে। সবাই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
দীর্ঘ লকডাউনের কারণে অনেক দেশের বড় বড় ব্যবসায়ী গ্রুপের মুনাফা কমে গেছে; কেউ কেউ বড় লোকসানের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় কেউ আর অন্য দেশে বিনিয়োগ করছে না। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ অবস্থা কাটতে সময় লাগবে।
বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের চেম্বার অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে এফডিআই পরিস্থিতি ‘কখনই সন্তোষজন ছিল না। গ্যাস-বিদ্যুৎ, বন্দরসহ অন্য অবকাঠামো সমস্যার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগ করতে তেমন আগ্রহী হতেন না।
এখন এসবের অনেক উন্নতি হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনসহ সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এফডিআই বাড়ার একটা অনুকূল পরিবেশও সৃষ্টি হচ্ছিল। কিন্তু মহামারী সে সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছে। এখন এফডিআই না বেড়ে উল্টো কমছে।
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংস্থা-আঙ্কটাড গত ২৯ অক্টোবর বিশ্ব বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, করোনাভাইরাসের মহামারীতে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে যে ধস নেমেছে, তার ধাক্কা উন্নত দেশ থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত- সব দেশের ওপরই পড়েছে। ২০২০ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বিশ্বে এফডিআই প্রবাহ কমেছে ৪৯ শতাংশ।
এই ছয় মাসে বাংলাদেশে ১১৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৯ শতাংশ কম। ২০১৯ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে ১৪৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার এফডিআই এসেছিল।
আঙ্কটাডের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ১৫৯ কোটি ৭০ লাখ ডলারের এফডিআই এসেছিল, যা ছিল আগের ৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০১৮ সালে বিদেশি বিনিয়োগ এসেছিল ৩৬১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশে এক বছরে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ। এর মধ্যে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে জাপানের কোম্পানি জাপান টোব্যাকো। আকিজ গ্রুপের তামাক ব্যবসা কেনা বাবদ প্রায় ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল তারা।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর