Header Border

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

নির্বাচন ইস্যুতে অভিন্ন দাবি ৪১ রাজনৈতিক দলের

সময় সংবাদ রিপোর্টঃ আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচকে সামনে রেখে বিরোধী ৪০ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন দাবিগুলোর মধ্যে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিটি এক ও অভিন্ন। নির্বাচনকালীন সরকার কোন ফরমেটে হবে তা নিয়ে দলগুলোর আলাদা আলাদা মত থাকলেও দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে তাদের মনোভাব এক। গতকাল সোমবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে তাদের এই মনোভাবের কথা জানা যায়।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে বিগত সময় এ দেশে দলীয় সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে তার ফলাফল সুখকর নয়। তারা মনে করে এ দেশের প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু করা সম্ভব নয়। তাই জনগণের ভোটের অধীকার নিশ্চিত এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার প্রয়োজন। সেটা হোক সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনকালীন জাতীয় সরকার বা অন্য কোনো ফরমেট। যাদের পরিচালনায় একটি সুষ্ঠু ভোট হবে। যেই ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি বাছাই করে নিতে পারবেন।নির্বাচনকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করার জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই বলেও মনে করে এসব রাজনৈতিক দলগুলো।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এসব শীর্ষ নেতারা আরো মনে করেন, দলীয় সরকারের অধীনে গত ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একাদ¦শ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে তা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এ দু’টি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হয়নি। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড ছিল না। সর্বোপরি নির্বাচন দু’টির মাধ্যমে এ দেশের নাগরিকরা ভোটের অধিকার হারিয়েছে। তাই জনমনে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোটের প্রতি তাদের আস্থা হারিয়েছে। তাই মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে ও ভোটারদের নির্বাচনে ভোট প্রদানে আস্থাশীল করতে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই।

এ বিষয় জানতে চাইলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা দলগতভাবে জাতীয় সরকারের দাবি করেছিলাম। জাতীয় সার্থে ‘গণতন্ত্র মঞ্চের’ সাথে জোটগতভাবে আমরা একটি নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের দাবি জানাচ্ছি। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনকালীন অবশ্যই নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা থাকতে হবে।

বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম (বীর প্রতীক) বলেন, একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারই কেবল পারে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে। তাই মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ সরকারের বিকল্প নেই।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দলীয় সরকারে অধীনে এ দেশে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এ দেশের কোনো মানুষ বিশ্বাস করে না এ সরকারকে ক্ষমতায় রেখে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এমনকি আওয়ামী লীগের ভোটাররাও বিশ্বাস করেন না, তাদের সরকার ক্ষমতায় থাকলে অন্য ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। তাই আমরা ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকেও আহ্বান জানিয়ে আসছি তারা যেনো এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যায়।

ভাষানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, এ দেশের ইতিহাসে দলীয় সরকারের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। তাই দলীয় সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না।

খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আব্দুল কাদের বলেন, আমরা ইসিকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছি নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ সরকার থাকতে হবে। কোনো দলীয় সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই না।
গণফ্রন্টের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, আমি নির্বাচনকালীন একটি রাজনৈতিক সরকার চাচ্ছি। ১৯৭২ সাল থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে প্রতিনিধি নিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলে আসছি। সেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি উভয় থাকবে। তাহলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল) মহাসচিব শেখ জুলফিকর বুলবুল চৌধুরী বলেন, আমরা এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন চাই না। আমাদের দাবি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই সরকারের সব এমপিকে পদত্যাগ করে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। তারপর একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে তাদের ডাকা সংলাপে গিয়েছিলাম। সেখানে আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, দলীয় সরকারে অধীনে কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। তাই আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, স্বাধীনতার পর যেসব রাজনৈতিক দল অন্তত ২ বার প্রতিনিধিত্ব করেছে তাদের মধ্য থেকে একজন করে সদস্য নিয়ে অন্তত ৬০ বা ৯০ দিনের জন্য একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হোক।

বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ)-এর চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি বলেন, বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে আমরা নির্বাচন কমিশনকে ইভিএম বাদ দেয়াসহ কিছু পরামর্শ দিয়েছি। সে সব পরামর্শ যদি ইসি বাস্তবায়ন করতে পারে তবে নির্বাচনকালীন কোন সরকার হলো সেটা সমস্যা না।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক বলেন, আমরা সবসময় একটি নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন চাই। সেটা আমরা লিখিতভাবে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে জানিয়েছি।

এছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোটের ছয় দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ‘গণতন্ত্র মঞ্চের’ ৭ দল জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, গণঅধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, ২০ দলীয় জোটের সব ক’টি দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিএনপি, গণফোরাম, নাগরিক ঐক্য, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ১৪ দল থেকে বের হয়ে আসা বাসদ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশসহ মোট ৪১টি রাজনৈতিক দল নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের সপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উভয় জোটে আছেন। ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উভয় জোটে আছে বিএনপি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর