Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

নৌপথে ডাকাতি- চার বছরে লঞ্চের কেবিনে ৪ খুন , যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনায় চাঁদপুরগামী এক লঞ্চে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়। নৌপথে বিলাসবহুল লঞ্চে একের পর এক খুন-ডাকাতির ঘটনায় যাতায়তকারীরা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে আছেন।কিছুদিন আগে বরিশালগামী বিলাসবহুল এক লঞ্চের কেবিন থেকে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার রেষ না কাটতেই আরেক লঞ্চের ছাদে এক যুবককে কুপিয়ে হত্য করে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনায় চাঁদপুরগামী এক লঞ্চে দুর্ধর্ষ ডাকাতি হয়।  কখনো কখনো পরিকল্পিতভাবে কাউকে ঘুরতে যাওয়ার নাম করে লঞ্চের কেবিন ভাড়া নিয়ে হত্যা করা হয় বলেও অভিযোগ আছে। লঞ্চের ভেতরে দায়িত্বে থাকা আনসার ও নৌ পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় অপরাধ ঘটলেও তারা নিরাপত্তা দিতে অনেক সময় ব্যর্থ হয়। ফলে সুযোগ বুঝে মাঝ নদীতে ডাকাতরা যাত্রীদের মোবাইল সেট, টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে অন্তত ৪ টি খুনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা থেকে দক্ষিনাঞ্চলগামী রুটে লাচলকারী লঞ্চগুলোতে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনায় চাঁদপুরগামী লঞ্চে ডাকাতি, অর্থসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটের ঘটনা ঘটে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী পথে পুলিশি করার জন্য সরকার নৌ পথের নিরাপত্তায় ২০১৩ সালের নবেম্বর থেকে নৌ পুলিশের কার্যক্রম শুরু করে। নদী পথে চোরাচালান, দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নদীর সম্পদ রক্ষায় নৌ পুলিশ নামে পুলিশের নতুন ইউনিট গঠন করা হয়। পুলিশের একজন উপ-মহাপরিদর্শকের অধীনে এ বাহিনী পরিচালিত হচ্ছে। নৌ পথে যাত্রীদের নিরাপত্তা, নৌ রুটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ বাহিনী কাজ করে আসছে। তবে এ বাহিনী গঠনের পরও নৌ পথে অপরাধ কমছে না। নৌপথে ডাকাত ও জলদস্যুরা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি জেলেদের হমালায় অন্তত ২০ জন নৌ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলায় প্রতিদিন কয়েক হাজার  নৌযানে লক্ষাধিক যাত্রী পদ্মা পাড়ি দেয়। তবে লঞ্চ ও ফেরিতে পদ্মা পাড়ি দিতে ঘাটে আসা যাত্রীদের নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। লঞ্চের ভেতরে ও ঘাটে সক্রিয় থাকা পকেটমার, ছিনতাইকারী, মলমপার্টি, দালালদের দৌরাত্ম্য থামছে না। বিভিন্ন ঘাটে পুলিশের স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল রয়েছে বলে অভিযোগ আছে। ক্যামেরাগুলো বিকল থাকায় ঘাট এলাকায় অপরাধীদের চক্রের দৌরাত্ম্য কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পর থেকেই ঘাট সংশ্লিষ্ট অপরাধীরা তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্ন করতে ক্যামেরার ক্যাবল (সংযোগ তার) কাটা, ক্যামেরার মুখ ঘুরিয়ে রাখাসহ বিভিন্নভাবে ক্যামেরাগুলো বিকল করে রাখে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের ষাটনলগামী এমভি মকবুল-২ লঞ্চে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় লঞ্চে দেড়শ থেকে দুইশজন যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। নারাণয়ণগঞ্জ থেকে রাত ৯টায় ছেড়ে যাওয়া লঞ্চটি মেঘনা নদীর ষাটনল এলাকায় আসার পর ডাকাতির কবলে পড়ে। যাত্রীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্পিডবোটে করে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আট থেকে নয়জনের একটি ডাকাতদল লঞ্চটিতে হানা দেয়। মাঝ নদীতে ডাকাতরা যাত্রীদের মোবাইল সেট, টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ডাকাতরা কয়েকবার ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ডাকাতদের হামলায় অনেক যাত্রী আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল নাগাদ লঞ্চসহ যাত্রীরা চাঁদপুরে পৌঁছেছেন। গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান সময় সংবাদ লাইভকে জানান, মেঘনার ষাটনল এলাকায় এমভি মকবুল-২ নামের লঞ্চটিতে ডাকাতি হয়েছে বলে যাত্রীরা এসে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। ডাকাতরা প্রায় সব যাত্রীর মোবাইল সেট, কয়েক লাখ টাকা ও অনেকের কাছ থেকে মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। খবর পেয়ে ডাকাতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান এসআই মজিবুর রহমান।
সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ছাদে যুবককে কুপিয়ে হত্যা: বরিশাল-ঢাকা নৌ রুটের বিলাসবহুল লঞ্চ সুন্দরবন-১১ এর ছাদে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লঞ্চটি ১৭ নবেম্বর ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে পৌঁছায়। লঞ্চর দায়িত্বে থাকা আনসার ও নৌ পুলিশ জানায়, লঞ্চটি বরিশাল নৌ ঘাটে পৌঁছার পরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ভোর ৬টার দিকে লঞ্চ ধোয়া মোছার কাজ শুরু করেন স্টাফরা। এ সময় তারা ছাদে সাইলেন্সারের পাশে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। যুবকের পরনে কালো প্যান্ট আর খয়েরি রংয়ের শার্ট ছিল। যুবকটির বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। স্টাফরা সুপারভাইজার ও সিকিউরিটিকে খবর দেন। পরে নৌ পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে। লঞ্চের সুপারভাইজার সিরাজুল ইসলাম জানান,  ছাদে যাত্রী ওঠা নিষেধ। এ জন্য ছাদে ওঠার গেটও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এই যুবক কীভাবে ছাদে উঠলেন তা জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের পেটে ছুড়িকাঘাত করা হয়েছে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে। নৌ পুলিশের ওসি মো. মামুন জানান, যুবকের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। কে বা কারা হত্যা করেছে তার ক্লু উদঘাটন হয়নি। লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার আগে-পরে যে কোনও সময় এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। ছাদের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ রয়েছে।
পারাবত-১১ লঞ্চের কেবিনে জান্নাতুল ফেরদৌস লাবনীকে (২৯) হত্যার ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে (৩৪) গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর লাবনীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন মনিরুজ্জামান। মনিরুজ্জামান চৌধুরী পুলিশকে বলেন, লাবনীর সঙ্গে ২০১৮ সালে তার পরিচয় হয়। লাবনী বিবাহিত ছিলেন। এরপর তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। কয়েক দিন আগে লাবনী লঞ্চে বরিশাল ঘুরতে যাওয়ার বায়না ধরে। রোববার ঢাকা থেকে একসঙ্গে বরিশাল যাওয়ার জন্য পারাবত-১১ লঞ্চে ওঠেন তারা। লঞ্চের কেবিনে লাবনীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাবনীকে হত্যা করে পালিয়ে যান। পরে বাসে ঢাকায় চলে আসেন মনিরুজ্জামান। ১৪ সেপ্টেম্বর ভোরে ঢাকা থেকে বরিশালে আসা যাত্রীবাহী পারাবত-১১ লঞ্চের ৩৯১ নম্বর কেবিন থেকে ওই নারীর লাশ  উদ্ধার করে পুলিশ।
জেলেদের হামলায় ২৫ নৌ-পুলিশ আহত:  চাঁদপুরে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে নেমে জেলেদের অতর্কিত হামলায় নৌ-পুলিশের এএসপি মো. হেলাল উদ্দীনসহ ২৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। গত ২৫ অক্টোবর সকালে সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন- নৌ-পুলিশের এসপি মো. হেলাল উদ্দিন (৫৪), নৌ পুলিশের পরিদর্শক মুজাহিদুল ইসলাম (৪০), নায়েক ইকবাল (৩৪), শাহজালাল (৩০), কনস্টেবল আমিন (৩৪), ফেরদৌস শেখ (২৮), নিলয় (২৮), আল মামুন তালুকদার (২৮), মোনায়েম (২৮) সহ আরও অনেকে। নৌ-পুলিশের পরিদর্শক মো. মুজাহিদুল ইসলাম  জানান, মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে ঢাকা হেডকোয়ার্টার থেকে ১০০ জন নৌ-পুলিশ সদস্য নিয়ে চাঁদপুরে আসেন। একটি লঞ্চ ও পাঁচটি স্পিডবোট যোগে নৌ-পুলিশের দলটি মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানে নামে। তিনি আরও জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় লক্ষ্মীরচরে জেলেরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা থেকে রক্ষা পেতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নৌ-পুলিশ রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে।
বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী এমভি সুন্দরবন-১০ লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক নারীকে ডুবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে জেলেরা। ১৪ নবেম্বর রাতে তিনি ওই লঞ্চ থেকে হঠাৎ কীর্তনখোলা নদীতে ঝাঁপ দেন। রাত ১০টার দিকে ওই নারী ঝাঁপ দেওয়ার পর প্রায় ঘণ্টাখানেক লঞ্চটি থামিয়ে তার খোঁজ করা হয়। কিন্তু তাকে তখন পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় জেলেদের উদ্দেশ করে মাইকিং করে ওই নারীকে খোঁজার অনুরোধ জানিয়ে লঞ্চটি আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে জেলেরা ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করে। এরআগে ঢাকা-বরিশাল রুটের এমভি পারাবত-৯ লঞ্চের কেবিনে রহস্যজনকভাবে খুন হওয়া অজ্ঞাত যুবতীর (২০) পরিচয় আজও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। গ্রেফতার করা যায়নি হত্যাকারীকে। ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা সদরঘাটে এমভি পারবত-৯ লঞ্চের কেবিন থেকে অজ্ঞাতনামা যুবতীর লাশ উদ্ধারের পর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্ত ওই যুবতীর পরিচয় না পাওয়ায় এ হত্যাকাণ্ডের কোন কূল-কিনারা করতে পারেনি থানা পুলিশ। অবশেষে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর