Header Border

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ৩০.৯৬°সে

ফের বিশ্বে জেঁকে বসেছে করোনা, মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ বিশ্বে করোনায় মৃত্যু  শীতের মৌসুম শুরু হতেই আবার বাড়তে শুরু করেছে তীব্র আকারে। মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে হু হু করে। গত একদিনে করোনায় নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ৬১৩ জনের এবং একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৯০ হাজারের বেশি মানুষ। নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। করোনা নিয়ে আপডেট দেয়া ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫ কোটি ৪৮ লাখ ৯ হাজার ১০৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৩১৭ জনের।

 * বিশ্বে একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্ত ৬ লাখ ৬০ হাজার
* দেশে গত দশ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত
* ঢাকায় মাস্ক পরা নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দে

প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ বাড়ছে বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬ হাজার ১৯৪ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫৪২ জন। এমতাবস্থায় ঢাকায় মাস্ক পরা নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথম দফার চেয়ে দ্বিতীয় দফায় মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দেয়া হিসাবে শনিবার গোটা বিশ্বে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর আগে কখনও একদিনে এত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হননি। খবর এএফপির।
চলতি সপ্তাহের বেশিরভাগ দিন রেকর্ড করোনার সংক্রমণ প্রত্যক্ষ করেছে বিশ্ব। একদিন আগে অর্থাৎ গত শুক্রবারও ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১০ হলে সেটাই ছিল সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড। এর আগে দৈনিক সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড ছিল গত ৭ নভেম্বর। ওই দিন ৬ লাখ ১৪ হাজার ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
শনিবার নতুন করে রেকর্ড আক্রান্তের দিনে সবচেয়ে বেশি ২ লাখ ৬৯ হাজার ২২৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে দুই আমেরিকায়। এর আগে ওই দুই মহাদেশে এত মানুষ করোনায় আক্রান্ত হননি। প্রায় প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছেই। গত শনিবার, রোববার এবং মঙ্গল ও বুধবার ছিল রেকর্ড সংক্রমণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার করা হিসাব অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে চীনের উহান শহর থেকে প্রথমবারের মতো প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর পর বিশ্বের ৫ কোটি ৩৭ লাখের বেশি মানুষের দেহে সংক্রমণ ঘটিয়েছে মহামারি করোনা। এর মধ্যে ১৩ লাখের বেশি মানুষ ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন। পরিস্থিতি এখন আরও জটিল হচ্ছে।
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিষয়ক অঙ্গ সংস্থাটির প্রধান টেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস শুক্রবার সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘বৈশ্বিকভাবে এই ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে আরও অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হবে আমাদের।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে এই প্রথম টানা তিনদিন বিশ্বজুড়ে ৯ হাজার ৫০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ৯ হাজার ৯২৮, শুক্রবার ৯ হাজার ৫৬৭ এবং ৯ হাজার ৯২৪ জন। একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড অবশ্য গত ১৫ আগস্টের। ওই দিন ১০ হাজার ১২ জন কোভিড-১৯ রোগী প্রাণ হারিয়েছিলেন।
এদিকে দেশে গত এক দিনে আরও ২ হাজার ১৩৯ জনের শরীরে নতুন করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা গত দশ সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।  এর আগে এর চেয়ে বেশি নতুন রোগী শনাক্তের খবর এসেছিল গত ৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন ২ হাজার ২০২ জন রোগী শনাক্তের তথ্য জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত নতুন ২ হাজার ১৩৯ জনকে নিয়ে দেশে মোট ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর ২৪ ঘন্টায় এ ভাইরাসে আরও ২১ জনের মৃত্যু হওয়ায় দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২১৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ১ হাজার ৬০৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত এক দিনে। তাতে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৫১ হাজার ১৪৬ জন হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ, তা ২৬ অক্টোবর ৪ লাখ পেরিয়ে যায়। এর মধ্যে গত ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত।
প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৪ নভেম্বর তা ছয় হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বিশ্বে শনাক্তের দিক থেকে ২৪তম স্থানে আছে বাংলাদেশ, আর মৃতের সংখ্যায় রয়েছে ৩২তম অবস্থানে। বিশ্বে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ৫ কোটি ৪৪ লাখ পেরিয়েছে; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ১৩ লাখ ১৭ হাজারের ঘরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১১৬টি ল্যাবে ১৫ হাজার ৭৬৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৬২টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ আর নারী ৬ জন। তাদের মধ্যে ২০ জন হাসপাতালে এবং ১ জন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি, ৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং ১ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ছিল।
মৃতদের মধ্যে ১৩ জন ঢাকা বিভাগের, ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩ জন রংপুর বিভাগের এবং ১ জন রাজশাহী বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।  দেশে এ পর্যন্ত মারা যাওয়া ৬ হাজার ২১৫ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৭৮৩ জনই পুরুষ এবং ১ হাজার ৪৩২ জন নারী।
তাদের মধ্যে ৩ হাজার ২৬৬ জনের বয়স ছিল ৬০ বছরের বেশি। এছাড়াও ১ হাজার ৬৩২ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ৭৬৬ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৩৩১ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, ১৪৩ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, ৪৮ জনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এবং ২৯ জনের বয়স ছিল ১০ বছরের কম।
এর মধ্যে ৩ হাজার ২৬১ জন ঢাকা বিভাগের, ১ হাজার ২১৮ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৩৭৯ জন রাজশাহী বিভাগের, ৪৮২ জন খুলনা বিভাগের, ২০৭ জন বরিশাল বিভাগের, ২৫৭ জন সিলেট বিভাগের, ২৮১ জন রংপুর বিভাগের এবং ১৩০ জন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
বিশ্ব যখন করোনায় ত্রাহি অবস্থা তখন ঢাকায় মাস্ক পরা নিশ্চিতে মোবাইল কোর্ট (ভ্রাম্যমাণ আদালত) পরিচালনাসহ শক্ত অবস্থানে যাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়। গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।
আলোচ্যসূচির বাইরে মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আজকে ডিজাস্টার নিয়ে একটু আলোচনা হয়েছে। কোভিড নিয়ে বলা হয়েছে, আরেকটু স্ট্রিক্ট ভিউতে যেতে হবে। (করোনা) একটু বেড়েও যাচ্ছে মনে হচ্ছে। সেজন্য আরেকটু প্রি-কশান (সতর্কতা) নেয়ার জন্য বলা হয়েছে। ডিজাস্টারকে আরেকটু কম্প্রিহেনসিভ প্রেজেন্টেশনের জন্য ক্যাবিনেটে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।’
ঢাকাতে করোনার বিষয়ে কোন সেফটি মেজার্স দেখা যাচ্ছে না- এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অলরেডি আমরা গতকাল বলে দিয়েছি- যাতে ঢাকাতেও বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল কোর্ট বা ল-এনফোর্সিং এজেন্সি (আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) যাতে আরেকটু স্ট্রং (শক্ত অবস্থানে) হয়।’ কবে থেকে এটা দেখা যাবে- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আশা করি আগামী ২/৩ তিনদিনের মধ্যে দেখা যাবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর