Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত সিলেট

সময় সংবাদ রিপোর্টঃ  পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড এবং বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে সিলেট নগরী। প্রায় এক দশকের মধ্যে শনিবার এখানে প্রথম জনসভা হতে যাচ্ছে বলে নগরীর দখল নিতে শুরু করেছে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

গত অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে শুরু হওয়া বিভাগীয় সমাবেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে সমাবেশের মাধ্যমে আরেকটি বিশাল শোডাউন করতে প্রস্তুত। দলটির ধারাবাহিক সমাবেশের সপ্তম আয়োজন এটি।

আগের ছয়টি সমাবেশে দারুণ সাফল্যের পর প্রধান বিরোধী দলের আত্মবিশ্বাসে বেড়েছে এবং শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে আরো শক্তিশালী হয়েছে।

সেই সাফল্যকে ধরে রাখতে সরকারের তৈরি বাধাগুলোকে ধারাবাহিকভাবে উপেক্ষা করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। এবার তারা শুক্রবার সকাল থেকে সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় ৩৬ ঘণ্টার বাস ধর্মঘট এবং শনিবার সকাল থেকে সিলেট জেলায় ১২ ঘণ্টার বাস ধর্মঘট উপেক্ষা করবে।

গত শনিবার (১২ নভেম্বর) ফরিদপুরে সর্বশেষ বিএনপি সমর্থকদের বিশাল সমাবেশসহ অন্তত ৫টি আয়োজনে কোনো প্রকার বাধা দিতে ব্যর্থ হলেও এ ধরনের পরিবহন নিষেধাজ্ঞা বিএনপি ও তার সমর্থকদের আর দমিয়ে রাখতে পারবে বলে মনে হয় না।

শনিবার আলিয়া মাদরাসা মাঠে দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে মঞ্চ তৈরি করেছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় নেতারা জানান, বিভিন্ন বিভাগে আগের অন্যান্য সমাবেশের মতোই নির্ধারিত সময়ের আগেই সমাবেশ শুরু হতে পারে।

২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর সিলেটে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে একই স্থানে দলের শেষ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে যোগ দিতে বিভাগীয় চারটি জেলা সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ ও সিলেট থেকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে নগরীতে পৌঁছেছেন।

শুক্রবার সকাল থেকে সিলেট ও দেশের অন্যান্য স্থানের মধ্যে বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকেই বিভাগের আওতাধীন সব জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের তিন চাকার গাড়ি, মোটরবাইক, এবং মাইক্রোবাস, ট্রেন, ট্রাক, লঞ্চ ও নৌকা এবং ছোট যানবাহন যেমন হিউম্যান হলার, অটোরিকশায় করে সমাবেশস্থলে আসতে দেখা গেছে।

শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে আসতে থাকায় পুরো শহর বিএনপি সমর্থকদের সাগরে পরিণত হয়েছে।

সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ জেলা থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা আট হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে দীর্ঘ মিছিলে সিলেট নগরীতে আসেন।

শুক্রবার সকাল থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে দুপুরের খাবার রান্না করায় সমাবেশস্থল ইতোমধ্যেই সমর্থকরা উপচে পড়ে। আয়োজকরা তাদের জন্য খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেছেন।

সমাবেশের প্রস্তুতি কার্যক্রম তদারককারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডক্টর আবদুল মঈন খান বলেন, বাস ধর্মঘটের কারণে সম্ভাব্য বাধা ও চ্যালেঞ্জ এড়াতে মঙ্গলবার থেকে তাদের নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিতে সিলেটে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে সমাবেশস্থলে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছে এবং তারা সেখানে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে। এটি একটি নজিরবিহীন গণঅভ্যুত্থান। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সমাবেশে আসছে।

ডা. মঈন বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিতে অতিষ্ট হওয়ায় অনেক সাধারণ মানুষ তাদের সমাবেশে যোগ দিতে আসছেন। তারাও দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চায়। শনিবার আমাদের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এটি একটি ঐতিহাসিক সমাবেশ হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইউম অভিযোগ করেন, সরকারের চাপে পরিবহন সংগঠনগুলো ধর্মঘট ডেকেছে।

কাইয়ুম দাবি করেন, ‘কোনো ষড়যন্ত্রই দলীয় নেতাকর্মীদের জনসমাগম ঠেকাতে পারবে না।’

সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় পরিবহন ধর্মঘট এবং সিলেট জেলায় অঘোষিত ধর্মঘটের কারণে সারাদেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সিলেট বিভাগ।

শনিবার সকাল থেকে সিলেট জেলার বাস ধর্মঘট শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে সিলেট নগরী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শুক্রবারের জন্য তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা করা যাত্রীদের সিলেটসহ আরো তিনটি জেলায় গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

তবে তিন চাকার গাড়ি ও ভাড়ায় চালিত মাইক্রোবাসের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরের পর বিভাগীয় পর্যায়ে শনিবার সিলেটে বিএনপির সপ্তম সমাবেশ হবে।

ময়মনসিংহ, বরিশাল, রংপুর, খুলনা ও ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশের আগেও একই ধরনের ধর্মঘট শুরু করা হয়েছিল। তবে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক বাধা অতিক্রম করে সমাবেশে অংশ নেন।

চলমান আন্দোলনের গতি অব্যাহত রাখার পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ১০টি বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক জনসভার ঘোষণা দেয় বিএনপি।

আয়োজকরা জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির নিন্দা, ভোলা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও যশোরে পূর্বে পুলিশের হাতে দলের পাঁচ নেতাকর্মীর মৃত্যু এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিত করতেই এই সমাবেশ।

বিএনপি দীর্ঘ দিন ধরে দাবি করে আসছে যে আগামী সাধারণ নির্বাচন কোনো রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংবিধানে এমন সুযোগ নেই বলে তা তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্র : ইউএনবি

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর