Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩০.৯৬°সে

বড় নদীগুলোতে ভাঙন রোধে ড্রেজিংয়ের স্থায়ী পরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ  দেশের বড় নদীগুলোতে ভাঙন রোধে নিয়মিত ক্যাপিটাল ড্রেজিং (বড় পরিসরে খনন) করতে হবে। এ জন্য ড্রেজিংয়ের স্থায়ী পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সারা বছর নিয়মিত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: আসাদুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদীর প্রবাহ যেন ঠিক থাকে। ভাঙনের প্রধান কারণ নদীর পানি যখন কমে যায় তখন চর পড়ে যায় বা অন্যান্য কারণে পানি বেড়ে গেলে ভাঙন শুরু হয়। তিনি বলেন, এসব বড় নদীতে সারা বছর ড্রেজিংয়ের একটা পরিকল্পনা থাকতে হবে।
শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে  “মঙ্গলবার” জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এনইসি সম্মেলন কক্ষের একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো: আসাদুল ইসলাম। তিনি জানান, সভায় দুই হাজার ৪৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই অর্থের ৬০৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা বিদেশী ঋণ, এক হাজার ৬৬৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং ১৮২ কোটি ১৪ লাখ টাকা সংস্থার নিজস্ব টাকা।
সচিব জানান, ড্রেজিংয়ের বিষয়ে যেসব প্রকল্প আছে সেগুলো দ্রুত একনেকে উপস্থাপনের জন্য অনুশাসন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ড্রেজিং কার্যক্রমের ধরনে পরিবর্তন এবং নিয়মিত ব্যবস্থাপনার জন্য একটা প্রকল্প নিতেও প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনা বিভাগের সচিব। তিনি আরো বলেন, দ্রুত চর ওঠার কারণে যেসব নদীর পথ পরিবর্তন হয়ে যায় বা ভাঙে এগুলো চিহ্নিত করে ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। একইভাবে বর্ষাকালের পানি ধরে রাখার জন্য জোন তৈরি করতে হবে; যাতে পানির স্তর, অন্যান্য ব্যবস্থাপনা, পানির পরিমাণ বজায় থাকে।
একই নদীতে ভাঙন রোধে একাধিক প্রকল্প নেয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) মো: জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, বাংলাদেশে যে পরিমাণ পানির ফ্লো (প্রবাহ) আসে, সে পরিমাণ বালু ও কাদামাটি নিয়ে আসে, এটা একদিকে আশীর্বাদ আরেক দিকে কষ্টের কারণ। আশীর্বাদ হলো নদীর পাশের কৃষি জমি এতে পলি পাচ্ছে। সমস্যা হলো, এর ফলে আমাদের নদীগুলোতে প্রতিনিয়ত চর পড়ছে। কারণ যখন চর তৈরি হয়, মাঝখানে চর তৈরি হলে পানি হয় ডান-বাম দিকে যাবে, নয়তো ভাগ হয়ে যাবে। যখন ভাগ হয়ে যায়, তখন দুই দিকে ভাঙন সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, নিয়মিত খনন মজার বিষয় নয়। এখন পর্যন্ত প্রত্যেকটা প্রজেক্ট বেইজড অ্যাপ্রোচ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রজেক্ট বেইজড অ্যাপ্রোচ থেকে সরে এসে আমাদের ক্যাপিটাল ড্রেজিং করতে হবে অ্যাজ মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং। সেখানে যেতে হলে পানিসম্পদ সচিব ও মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করেছি, তাতে আমাদের মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ের জন্য নিজস্ব ড্রেজার দরকার। অর্থাৎ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব ড্রেজার দরকার। একটা ড্রেজারের দাম পড়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা। আমাদের সচল ড্রেজার আছে মাত্র পাঁচ-ছয়টা। বাকিটা ভাড়া করে আনা হয়। তাদের ড্রেজিং সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ড্রেজারের একটা প্রকল্প দিয়েছে কিছুদিন আগে। এ প্রকল্পে ছয় হাজার কোটি টাকায় তারা ড্রেজার কিনবে মাত্র ৩২টা। সুতরাং সব সমস্যার সমাধান করা যাবে না। কিন্তু বড় নদীগুলোতে আমরা স্টাডির মাধ্যমে মেইনটেন্যান্স ড্রেজিংয়ে যাব। সেই ক্ষেত্রে নদীর ডান ও বাম তীর সংরক্ষণের প্রকল্প যে ঘন ঘন আসছে, হয়তো তখন একই নদীতে এরকম এত প্রকল্প আসবে না।
একনেকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো, ৫৬০ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে যমুনা নদীর ডান তীরের ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সিংড়াবাড়ী, পাটাগ্রাম ও বাঐখোলা এলাকা সংরক্ষণ, ১৯৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কক্সবাজারে শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্প, এক হাজার ৪৮৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা বর্ধিত খরচে পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল জেলা মহাসড়কে এক স্তর নিচু দিয়ে উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধন এবং দুই হাজার ৫০৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বর্ধিত খরচে আমিনবাজার-মাওয়া-মংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, আঘাত হানতে পারে ২৬ মে
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
যেভাবে হজ পালন করবেন
দুবাইয়ে গোপন সম্পদের পাহাড়, তালিকায় ৩৯৪ বাংলাদেশি
সড়কে মৃত্যুর মিছিল:দশ বছরে প্রাণহানি ৭৮ হাজার,দায় নিচ্ছে না কেউ
প্রথম ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন যারা

আরও খবর