Header Border

ঢাকা, রবিবার, ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩০.৯৬°সে

মেট্রো রেল প্রকল্পে এখনো শুরু হয়নি সংযোগ সার্ভিস রোড নির্মাণের কাজ

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ ২ শ’ ১৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে জাপানের সাহায্য সংস্থা জাইকা ১ শ’ ৬৫ বিলিয়ন ডলার দিবে।

রাজধানীর তুরাগের ধউর এলাকা। মেট্রোরেলের প্রথম স্টেশন থেকে দূরত্ব দেড় থেকে ২ কিলোমিটার। এ এলাকা থেকে শাহবাগ, পল্টন হয়ে মতিঝিল পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৩ ঘণ্টা। অথচ এই একই গন্তব্যে মেট্রোরেলে যেতে সময় লাগবে আধ ঘণ্টার মত। তাই এখানকার মানুষের প্রতীক্ষা, কবে হবে মেট্রোরেল।

মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চললেও এখনও শুরু হয়নি সংযোগ সড়ক বা সার্ভিস রোড নির্মাণের কাজ। ফলে শঙ্কা আছে, প্রকল্প শেষ হলেও সেবা বঞ্চিত হওয়ার। মেট্রো ব্যবস্থাপক বলছেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার ৬ মাস আগে তারা সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসবেন। তবে স্টেশন ঘিরে চক্রাকার বাস সার্ভিস চালু করার পরামর্শ দিয়ে, যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা আগ থেকে মহাপরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন।

দিয়াবাড়ি থেকে মেট্রোলাইন শুরু হওয়ায়, এমন অপেক্ষা আছে আশপাশের ডিওএইচএস, বিমানবন্দর, বাউনিয়া, উত্তরা, আশুলিয়া এলাকার লাখ লাখ নগরবাসীর।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মেট্রোরেলের প্রথম ৩টি স্টেশন রাজউক পরিচালিত উত্তরা তৃতীয় প্রকল্প এলাকায় এখনও বসতি গড়ে ওঠেনি। তাই এর প্রাথমিক সুবিধাভোগী নগরবাসী। রাজউকসহ বিভিন্ন সংস্থার এসব এলাকা সংযোগ করে সড়ক করার মহাপরিকল্পনা আছে। কিন্তু বাস্তবে এসব সড়ক বর্ধিত করা কিংবা সংস্কারের কোন কাজই শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে মেট্রোরেলের এমডি এম এ এন ছিদ্দিক বলেন, মেট্রোরেল চালু করা অনেক আগেই ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। এবং আমরা বিষয়টি নিয়ে মিটিং করবো। মানুষ যাতে মেট্রোরেল স্টেশনে আসতে পারে, সেটি নিশ্চিত করবো।
পরিবহন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগে থেকে পরিকল্পনা না নিলে আর্থিক ক্ষতিতে পড়তে পারে এ প্রকল্প
বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, স্টেশনগুলো অলরেডি আয়োজন ছাড়াই হয়ে গেছে। এখন যে সম্ভাবনাগুলি রয়েছে সেটা যদি অবহেলা করা হয়। তাহলে অমার্জনীয় কাজ হয়ে যাবে। যে রোড গ্রিডটা উত্তরা থার্ড পেজে দেওয়া আছে এটাকে যদি ডেভেলপ করা যায় তখন অনেক লোকই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মেট্রোর যাত্রী হবে। এটা সবার জন্য তখন উপকার হবে।
শহরের ভেতরের মেট্রো স্টেশনগুলোর জন্যও নেই সংযোগ সড়ক বা সার্ভিস রোড। তাই এসব স্টেশনমুখী যানবাহনগুলোর কারণে উল্টো যানজটের শঙ্কা আছে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশের প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণ কাজ সামগ্রিকভাবে ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ নির্মাণ সম্পন্ন করার সঙ্গে সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্য বিধি বজায় রেখে কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঢাকা মাস পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) সূত্রে জানা গেছে , উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে শ্রমিক, কারিগর, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্টরা ‘দিন-রাত’ কাজ করায় ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের মেট্রোরেল নির্মাণের দৃশ্যমান নির্মাণ অগ্রগতি ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণ অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৫০ শতাংশ। তিনি বলেন, বর্তমানে মেট্রোরেলের উত্তরা ও আগারগাঁও মধ্যে ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের ১০ দশমিক ৮৬ কিলোমিটার দৃশ্যমান হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের অধীনে শহরে এমআরটি লাইন-৬ এর নির্মাণ কাজ পুরোদমে চলছে।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল পর্যন্ত লাইন-৬ ট্র্যাক চালানোর জন্য জাপানে রেল কোচ নির্মাণ করা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কোচের শিপমেন্টটি অপেক্ষায় রয়েছে এবং শিপমেন্ট হবে।
এতে বলা হয়েছে, দিয়াবাড়ি থেকে মিরপুর সেকশন পর্যন্ত রেল ট্র্যাক স্থাপন করা হচ্ছে এবং সেখানে বৈদ্যুতিক লাইনও বসানো হয়েছে।
এছাড়াও বলা হয়, ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৬ এর ২১ কিলোমিটার রুটে মোট ১৬টি স্টেশন থাকবে এবং সব স্টেশনে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করা হবে।
স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কাওরান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল।
সূত্র জানায়, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে শহরের মানুষ নির্ধারিত সময়ের আগেই স্বপ্নের মেট্রো রেলে দিয়াবাড়ি থেকে মতিঝিল দিকে যেতে পারবেন। তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় ভাইডাক্ট বসানো হয়েছে, সেখানে রেল লাইন ও বিদ্যুতের লাইন বসানোর কাজ চলছে।
মেট্রোরেল প্রকল্প স্থল পরিদর্শনের সময়, শ্রমিকদের নিরবিচ্ছিনভাবে কাজ করতে দেখা যায়। একই সময়, স্টেশন নির্মাণ এবং রেলপথ স্থাপন কাজ চলছে। মিরপুর-মতিঝিল সেকশনে বড় ক্রেন বসানো হচ্ছে, যার উপর রেল ট্র্যাক স্থাপন করা হবে।
টেকনিশিয়ান এবং কর্মীরা বলেছেন, তারা সময়মত প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য ‘২৪ ঘন্টা’ কাজ করার সময় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
যেভাবে হজ পালন করবেন
দুবাইয়ে গোপন সম্পদের পাহাড়, তালিকায় ৩৯৪ বাংলাদেশি
সড়কে মৃত্যুর মিছিল:দশ বছরে প্রাণহানি ৭৮ হাজার,দায় নিচ্ছে না কেউ
প্রথম ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন যারা
চট্টগ্রামে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত

আরও খবর