Header Border

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৭.৯৬°সে

সংলাপে বসে ছাড় দিতে চায় ঐক্যফ্রন্ট

সময় সংবাদ রিপোর্ট:১৪-দলীয় জোটের শীর্ষনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ফের সংলাপে বসতে চেয়ে গতকাল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পাঠানো চিঠির ইতিবাচক সায় এসেছে। গতকাল রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, আগামী ৭ নভেম্বর সকালে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৪-দলীয় জোট। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে, সংবিধানের বাইরে যাওয়া যাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঐক্যফ্রন্ট মনে করছে, সংবিধানের ভেতরে থেকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের একাধিক পথ খোলা আছে। সরকার আন্তরিক হলে ঐক্যফ্রন্ট, বিশেষ করে বিএনপি সংলাপে বসে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত। গণভবনে ১৪-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে গত রাতে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেন ফের ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসার।

ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলেছে, বর্তমান সংবিধানের আলোকে নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার দাবি তুললেও এ ব্যাপারে অনেকটা ছাড় দিতে প্রস্তুত আছেন তারা। প্রয়োজনে বর্তমান সংবিধানমতে প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা আছে। সরকারবিরোধী জোটের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি। এ বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা বলেন, সংসদ ভেঙে দিয়ে একটি নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হোক, যাতে সব নিবন্ধিত দলের সমন্বয়ে প্রতিনিধি থাকবে। ওই সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা হলেও তাদের আপত্তি থাকবে না। বিএনপিকে স্বরাষ্ট্রসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দিতে হবে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেও নির্বাচনে যাবে দলটি। ছোট পরিসরে ফের সংলাপে বসতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী ও ১৪-দলীয় জোটের শীর্ষনেতা শেখ হাসিনা বরাবর গতকাল রবিবার দুপুরে চিঠি দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এদিন দুপুরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা আ ও ফ শফিকউল্লাহ ও বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান চিঠি নিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। ওই কার্যালয়ের স্টাফ আলাউদ্দিন আহমেদ, মাসুদুর রহমান ও আবু সাঈদ প্রমুখ ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের চিঠি গ্রহণ করেন।

ড. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১ নভেম্বর গণভবনে অনুষ্ঠিত সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা দাবির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় নিয়ে আলোচনার পরও তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেদিন আলোচনাকালে আপনি বলেছিলেন, আমাদের আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অসম্পূর্ণ আলোচনা সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যে অতিজরুরি ভিত্তিতে আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে আবার সংলাপে বসতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে দফাগুলোর (ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা) সাংবিধানিক ও আইনগত দিক বিশ্লেষণের জন্য উভয় পক্ষের বিশেষজ্ঞসহ সীমিত পরিসরে আলোচনা আবশ্যক। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সংলাপ ব্যর্থ হলে সংকট তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে আন্দোলনের দিকে এগোতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের দল আন্তরিকতা নিয়ে সংলাপে বসেছে, বসবে। সরকারের প্রমাণ করা উচিত তারা সংকট সমাধানে আন্তরিক।

সূত্র মতে, আগামী কয়েক দিন অন্যান্য দলের সঙ্গে সংলাপের সময়সূচি ইতোমধ্যেই নির্ধারণ করা আছে প্রধানমন্ত্রীর। আজ সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি; আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ২টায় ইসলামী ঐক্যজোট এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের সঙ্গে সংলাপে বসবেন শেখ হাসিনা। মোট ৮৫টি দল আওয়ামী লীগের কাছে চিঠি দিয়ে ক্ষমতাসীন এ দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে বসার আগ্রহ প্রকাশ করে। এদিকে ৮ নভেম্বর নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা বলছেন, ঐক্যফ্রন্ট আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ নিক, তারা এটাই চান। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতাপূর্ণ হোক, এমন প্রত্যাশা থেকেই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী; অন্যান্য দল ও জোটের সঙ্গেও সংলাপে বসছেন।

অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলেছে, বর্তমান সংবিধানের আলোকে নিরপেক্ষ ব্যক্তির অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার দাবি তুললেও এ ব্যাপারে অনেকটা ছাড় দিতে প্রস্তুত আছেন তারা। প্রয়োজনে বর্তমান সংবিধানমতে প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা আছে। কিন্তু এতে সরকারি দলের আগ্রহ দেখে আলোচনায় এগোতে চান তারা। জানা গেছে, বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদের চেম্বারে গতকাল ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে ড. শাহদীন মালিক, ড. বোরহানউদ্দিন ও আসিফ নজরুল, এ তিন আইনজ্ঞকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারি জোট ও বিরোধী জোটনেতারা এখন কূটনীতিকপাড়ায় দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে গতকাল সকালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের বাসায় চা-চক্রে যোগ দিয়েছিলেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন। সেখানে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতও যোগ দিয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর