Header Border

ঢাকা, বুধবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ২রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ৩১.৯৬°সে

সত্য ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেইলি নিউজ রিপোর্ট॥ প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শুধু বাংলাদেশের সম্পত্তি নয়, সারাবিশ্বের মূল্যবাদ সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে।

এই একটি মাত্র ভাষণে বঙ্গবন্ধু শুধু স্বাধীনতার ঘোষণাই নয়, যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন।

ভাষণটি আজ বিশ্বের প্রমাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে, গোটা বিশ্বের মানসভ্যতার অমূল্য দলিল হিসেবে স্থান পেয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে এক অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও পয়েন্ট অব অর্ডারে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ কর্তৃক উত্থাপিত অনির্ধারিত ওই আলোচনায় সরকার, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং ঐক্যফ্রন্টের একজনসহ মোট ১১ জন অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যারা ৭ মার্চ ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ করেছিল তারা কতো অন্ধকার যুগে বাস করতো তা আজ প্রমাণ হয়েছে।

তারা এ ভাষণের মূল্য বুঝতে পারেনি, এটা যে দেশের জন্য কতো মূল্যবান সম্পদ তা বুঝতে পারেনি। কিন্তু ইতিহাসকে কেউ মুছে ফেলতে পারে না। সত্যকে কোনদিন বেশিদিন ঢেকে রাখা যায় না, সেটিও আজ প্রমাণিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা।

এ ধরণের বিরল ঘটনা পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন নির্বাচনে জিতলেও পাকিস্তানীরা বাঙালিদের হাতে ক্ষমতা দেবে না।

সেজন্য সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করার প্রস্তুতি তাঁর দীর্ঘদিন থেকেই ছিল। যুদ্ধ বাঁধলে কোথায় ট্রেনিং হবে, অস্ত্র কোথায় থেকে আসবে, অর্থ কোথায় থেকে আসবে সবকিছুর প্রস্তুতিই তিনি আগে থেকেই রেখে গিয়েছিলেন।

সংসদ নেতা বলেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু গেরিলা যুদ্ধসহ সবকিছুই বলে গিয়েছিলেন, যা বাঙালী জাতিকে বুঝতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি। পাকিস্তানীরা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার সংগ্রামকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে দেখাতে অনেক কিছুই করেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তা হতে দেননি।

২৫ মার্চ গণহত্যার পরই বঙ্গবন্ধু আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণার দেয়ার পর আন্তর্জাতিক বিশ্বের সমর্থন ও স্বীকৃতি আমরা পেয়েছি।

তিনি আরো বলেন, পৃথিবীর অনেক স্বীকৃত ভাষণ রয়েছে। সেগুলোর সবই হয় লিখিত কিংবা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে বলা হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পুরো ভাষণটি ছিল অলিখিত, মনের হৃদয় থেকে উচ্চারিত। অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে সশস্ত্র যুদ্ধে নামানো এবং সেই যুদ্ধে বিজয় হওয়ার ঘটনা সারাবিশ্বের মধ্যে বিরল। পৃথিবীর এমন কোন ভাষণ নেই, যেটি ৪৮টি বছর ধরে সমান আবেদন নিয়ে মানুষ শুনছে, বাজছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৭ সালের ৩০ আগস্ট জাতিসংঘের ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণটি বিশ্ব প্রমাণ্য দলিল হিসেবে স্থান পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এ ভাষণের আবেদন কোনদিন ফুরবে না, যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর