Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

সিডরের ১৮ জেলার বেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড, ১৩ বছর পরও নির্মাণ হয়নি স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ ঘূর্ণিঝড় সিডরের ১৩ বছর পরও  স্বাভাবিক হয়নি সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট,  বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুরসহ উপকূলীয় ১৮ জেলার জীবনযাত্রা।  ২০০৭ সালের দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নবেম্বর প্রকৃতিতে যে ছাপ রেখে গেছে তা এখনও মুছে ফেলতে পারেনি উপকূলবাসী। কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেই ঝড়ের ক্ষয়-ক্ষতি। নতুন করে চলতি বছরের ঘূর্র্ণিঝড় আম্পান উপকূলীয় অঞ্চলে যে তান্ডব চালিয়েছে তার ক্ষত এখনও বহন করছে এসব অঞ্চলের কোটি মানুষ। লন্ডভন্ড  ১৮ জেলার বেড়িবাঁধ।  স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধ না হওয়ায়  ভোগান্তি বেড়েছে কয়েক গুণ। এখনো  জোয়ারের পানিতে বসবাস করছে অনেকে। বার বার আশার বাণী শোনানো হলেও এখনো স্থায়ী টেকসই বেড়িবাঁধের দেখা পায়নি উপকূলবাসী। ফলে জীবন জীবিকার তাগিদে কর্মস্থল ছেড়েছে হাজারো মানুষ।
বন্যা-জলোচ্ছ্বাসের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের পাশাপাশি সাগর পাড়ের মানুষের কাছে জোয়ারভাটা নিত্য ঘটনা। কোটি মানুষ বসবাস করেন অথচ সাগরপাড়ে সুরক্ষা নেই। পরিবেশের বিপর্যয়ের কারণে দীর্ঘস্থায়ী জোয়ার এবার সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগর, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার, ভোলায় মেঘনার, লক্ষ্মীরসহ ১৮ উপকূলীয় জেলার জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার বাড়িঘরে পানি উঠেছে। অথচ নাগরিকদের সুরক্ষায় এসব উপকূলীয় এলাকায় উঁচু বাঁধ নির্মাণে পরিকল্পনা থাকলেও বাঁধ নির্মাণে এখনো নজরে নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাগরপাড়ের বাঁধগুলো উঁচুকরণ, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে নজর না থাকার কারণে জোয়ারে পানির ঝুঁকিতে কোটি মানুষ। দীর্ঘস্থায়ী জোয়ার হওয়ায় এবার সাগরপাড়ের লাখ লাখ মানুষকে পানিবন্দি জীবন যাপন করতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্যতম দাতা সংস্থা জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারহেনস হোস ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত এসময় কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার জন্য জলবায়ুর পরিবর্তনকে দায়ী করে বলেন, জার্মান সরকার বাংলাদেশ জলবায়ূ পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য ৩০০ মিলিয়ন ইউরো প্রাদান করেছেন।
দাতা সংস্থা কে এন এইচ জার্মানীর কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর মারুফ রুমি মমতাজ জানান, প্রাকতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে উপকূলের মানুষকে রক্ষায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজন। বাঁধ নির্মাণ বা মেরামত করলে হবে না। তার দেখভাল করতে হবে। প্রকৃত ঘটনা সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা এসব করছেন না। প্রতিবছর শুধু বাঁধ মেরামতের নামে শত শত কোটি টাকার লুটপাট করেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলেন, আম্পানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় জেলার বাঁধগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হয়েছে। সেগুলো নির্মাণের জন্য নতুন নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প শুরু করার মধ্যে আবার নতুন করে জোয়ারের পানি দেখা দিয়েছে। এতে অনেক জেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে এবং বিলীন হয়েছে।
দেশের উপকূলীয় এলাকার ৮ হাজার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ২০০৯ সালে আইলার পর উপকূল এলাকার এসব বাঁধের অনেক জায়গা ভেঙে গিয়েছিল, অনেক জায়গা বানের তোড়ে ভেসে গিয়েছিল; কিন্তু তার বড় অংশ এখনো যথাযথভাবে মেরামত করা হয়নি। এতে করে গোটা উপকূলীয় এলাকা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। চলতি বছর আম্পানে উপকূলীয় জেলার ১৫২টি স্থানে ৫০ দশমিক ৪৭৮ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে বিলীন হয়েছে। ৫৮৩টি স্থানে ২০৯ দশমিক ৬৭৮ কিলোমিটার আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪৮টি নদীর তীরভাঙনে ১৩ দশমিক ২০৮ কিলোমিটার বিলীন হয়েছে এবং ৩৭টি নদীর তীর সংরক্ষণ উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ক্ষতি হয়েছে ১২ দশমিক ৮০০ কিলোটার।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সময় সংবাদ লাইভকে বলেন, দুরবস্থার কথা কাকে বলব? আম্পানের আগে বাঁধ সংস্কারের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছিলাম। কোনো কাজ হয়নি। মানুষের দুরবস্থা দেখলে কান্না আসে। অথচ কিছু করতে পারছি না। তার শুধু বলে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
শ্রীউলা ইউপির চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল বলেন, এমন দীর্ঘ সমস্যায় তাঁর ইউনিয়নের মানুষ কখনো পড়েনি। মানুষ গ্রাম ছেড়ে বাঁচার জন্য অন্যত্র চলে যাচ্ছে। পানিবাহী রোগে ভুগছে। কবে বাঁধ মেরামত হবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।  পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধু বলে- প্রকল্প নেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজ আর হচ্ছে না। শ্যামনগরের গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, কপোতাক্ষ নদের নেবুনিয়ে রিং বাঁধের ছয়টি স্থান অরক্ষিত।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর