Header Border

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৯.৯৬°সে

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পরিণত হলো বিষাদে !

আলমগীর পারভেজ : ২৬ মার্চ ছিল বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিনটি দেশবাসী খুবই উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে কাটাতে নানা আয়োজন রেখেছিল। কারণ ২৬ মার্চ ছিল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনও। এদিন আমাদের স্বাধীনতা ৫০তম বর্ষ অতিক্রম করে ৫১তম বর্ষে পদার্পণ করলো। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শাহাদাতবরণ করেন, অসংখ্য মানুষ আহত হন, বহু মা-বোন সম্ভ্রম হারান, সম্পদ-সম্পত্তির বেশুমার ক্ষতি হয়। এত কিছুর বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের প্রতীক্ষায় যুগযুগ ধরে অপেক্ষায় ছিল দেশের মানুষ। কিন্তু সেই অপেক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটলো স্বাধীন দেশের জনগণের রক্তেই। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন  ও একইসঙ্গে দেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী পালনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অঘোষিত কার্ফু জারি এবং হেফাজতের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের ঘটনায় সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পরিণত হয় বিষাদে। রাজনৈতিক দলসহ সাধারণ মানুষ এটিকে দেশের জন্য কলংকজনক অধ্যায় হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন। তারা বলছেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের দিনে ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলা এবং  হত্যার ঘটনা বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের আরও একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত। স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসব ও আনন্দের দিনে যেখানে রাজপথে ফুল ছিটানোর কথা, সেখানে রাজপথে  রক্ত ঝরানো হলো।
বিষয়টি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনকারী ডাকসু ভিপি স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা আসম আবদুর রব। দেশের বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ মিছিল ও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনাকে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির এ সভাপতি বলেন, সুবর্ণজয়ন্তীতে রক্তপাত জাতির জন্য কলঙ্কজনক অধ্যায়। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকারকে সম্মান জানিয়ে নাগরিকের মূল্যবান জীবন সুরক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা উচিক ছিল। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে রক্তাক্ত, দমন-পীড়ন নিপীড়ন কোনভাবেই গ্রহণীয় হতে পারে না। সরকারের যে কোন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে সহিংসভাবে দমনের প্রবণতা কোনক্রমেই মুক্তিযুদ্ধের রাষ্ট্রীয় চরিত্র হতে পারে না।
সূত্র মতে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার সহ সমৃদ্ধ দেশ গঠনই ছিল লাখো মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্ন। সেই লক্ষ্য এখনো অনেক দূরে। এখন পর্যন্ত এই অঙ্গীকার-প্রতিজ্ঞা অনেকটাই অপূর্ণ রয়ে গেছে, রাজনীতি এখনো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানমূলক ধারায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গণতন্ত্র এখনো সোনার হরিণ। সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রশ্নবিদ্ধ, মানবিক মর্যাদা ও সাম্য প্রায় নিখোঁজ। অর্থনৈতিক মুক্তি সুদূরপরাহত। বিশ্লেষকরা বলছেন, সবচেয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয় এই যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিকে বিভক্ত করার এক সর্বনাশা তৎপরতা চলছে। এই অবস্থায়ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সবাই উৎসাহ উদ্দীপনার মাধ্যমে এবারের ২৬ মার্চকে বরণ করতে চেয়েছিল। এমনিতেই বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারির তাণ্ডব অব্যাহত থাকায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় সব অনুষ্ঠানই সীমিত করা হয়েছিল। এমন পেন্ডেমিক অবস্থায়ও দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হয়ে আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। বিশ্ব নেতাদের অনেকে এ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। একটি দেশের জাতীয় ইতিহাসের নিরিখে খুব দীর্ঘ সময় না হলেও আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী বা ৫০ বছর অতিক্রম অনেক বড় তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার সেই স্বপ্ন এখনো অধরা থাকলেও ৫০ বছর পালনে পুরো দেশ ঐক্যবদ্ধ ছিল। সবাই আশা করেছিল সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে দিনটি ইতিহাসে অনন্য হয়ে থাকবে। তবে দিনটি ইতিহাসে ঠিকই লিখা থাকবে, ভিন্ন আঙ্গিকে।
বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক ড. আবদুল আলীম তালুকদার বলেন, স্বাধীনতা শব্দটির তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। স্বাধীনতা মানে শুধু নতুন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আয়োজন নয়, স্বাধীনতা হলো স্বাধীন রাষ্ট্রে সার্বভৌম জাতি হিসেবে টিকে থাকার আয়োজন। স্বাধীনতা মানে ইচ্ছে প্রকাশের স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনীতির স্বাধীনতা, বাক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি তথা শৃঙ্খলমুক্ত জীবনাচারকে বুঝায়। একটি দেশের স্বাধীনতা সেদিনই সার্থক হয়, যেদিন সে দেশের জনগণ প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক পরিবেশে নিজেদের নাগরিক অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার ক্ষমতা অর্জন করে। স্বাধীনতা যে কোনো জাতির পরম আকাক্সিক্ষত বিষয়, আরাধ্য ধন। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার লাভ, গণতান্ত্রিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ন্যায়নীতিভিত্তিক সমাজ গঠন, অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন, জানমালের নিরাপত্তা বিধান, ধর্ম পালন, নিজস্ব সংস্কৃতি-মূল্যবোধ-বিশ্বাসের অবারিত চর্চা নিশ্চিত করা ইত্যাদি সাধারণ জাতীয় আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের জন্য স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রতিটা জাতির জন্য অপরিহার্য।
স্বাধীনতা দিবসের দিনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি দলের হামলায় হতাহতের ঘটনাকে নির্মম, ন্যাক্কারজনক ও অমানবিক বলে অভিহিত করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবসের মতো জাতীয় উৎসবের দিনে ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রামের হাটহাজারী এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলা এবং  হত্যার ঘটনা বর্তমান সরকারের ফ্যাসিবাদী আচরণের আরও একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত। হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়ীয়ায় সরকারের সন্ত্রাসী বাহিনীর নির্মম হামলায় এপর্যন্ত পাঁচ জনের প্রাণহানী, অসংখ্য জন গুরুতর আহত এবং বায়তুল মোকাররমে পুলিশের পৈশাচিক হামলায় সাধারণ মুসুল্লীরা গুরুতর আহত হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের মতো উৎসব ও আনন্দের দিনে যেখানে রাজপথে ফুল ছিটানোর কথা, সেখানে রাজপথে  রক্ত  ঝরানো হলো। এই নির্মম ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে যেকোন কর্মসূচি পালন করার বা যেকোন বিষয়ে স্বাধীন মতামত ব্যক্ত করার অধিকার সকল নাগরিকের আছে। কিন্তু স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর মূহুর্তে বলতে হচ্ছে স্বাধীন দেশে জনগণ আজ যেন পরাধীন। জনগণের সকল গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে সরকার দেশে নিষ্ঠুর কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করেছে। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দ্বারা রক্তের নিষ্ঠুর হোলিখেলা চলছে। বিরোধী দল এবং বিরুদ্ধ মতের সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশ এবং আওয়ামী সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত ও অমানুষিক নির্যাতন এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে আওয়ামী সরকার যেন জনগণের বিরুদ্ধে অঘোষিত যুদ্ধ চালাচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ঢাকায় অঘোষিত কার্ফুর মতো অবস্থা জারি করে সরকার জনগনকে বাদ দিয়েই স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী ২৬ মার্চ উদযাপন  করেছে।  তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এদিনে বাংলাদেশের যে অবস্থা বিশেষ করে ঢাকা শহরের -এটা আমাদের কারো কাছে প্রত্যাশিত ছিল না। আমরা সারা শহর দেখলাম একটা অঘোষিত কার্ফুর মতো ছিল। জনগনের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যান চলাচলেও অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। জনগনকে বাদ দিয়েই এই দিনটি সরকার উদযাপন করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আমাদের সূবর্ণজয়ন্তী পালন করার যে কমিটি ছিলো সেই কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের অনেক বিস্তারিত কর্মসূচি ছিলো। কিন্তু সেই কর্মসূচি আমরা পালন করতে পারিনি। আমরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে যেতে পারিনি।
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সুবর্ণজয়ন্তী মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে পশ্চিম পাকিস্তানীরা আমাদের স্বার্থে বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল। তখন স্বাধীকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রাম সৃষ্টি হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা স্বাধীন হয়েছি, কিন্তু বৈষম্য থেকে আমরা মুক্তি পাইনি। জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯১ সালের পর থেকে সংবিধান সংশোধন করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছে। দলীয়করণের মাধ্যমে দেশের চাকরি, ব্যবসা এবং আইনের শাসনে বৈষম্য সৃষ্টি করেছে। ক্ষমতাসীন দল না করলে চাকরি মেলে না, ব্যবসা করা যায় না। আবার ক্ষমতাসীন দলের জন্য এক ধরনের আইন আর সাধারণ জনগণের জন্য ভিন্ন আইন। তাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে আবারো সংগ্রাম করতে হবে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, দেশে ক্রান্তিকাল চলছে। আওয়ামী দুঃশাসনে দেশের মানুষের বিশ্বাস চলে আসছে। দেশের মানুষ দিশেহারা হয়ে আওয়ামী অপশাসন থেকে মুক্তি চাচ্ছে। রাস্তায় বিজিবি নামিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, দেশে আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ নেই।
মহান স্বাধীনতা দিবসের মত একটি আনন্দঘন দিনে নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করার ঘটনাকে জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছে ২০ দলীয় জোট। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, জাতীয় জীবনে এমন অভূতপূর্ব ঘটনা জনসমর্থনহীন সরকারের স্বৈরাচারী চরিত্রের বহি:প্রকাশ। গত শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জোটের শীষ নেতারা একথা বলেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মহান জাতীয় জীবনে এমন অভূতপূর্ব ঘটনা জনসমর্থনহীন সরকারের স্বৈরাচারী চরিত্রের বহি:প্রকাশ। নেতৃবৃন্দ জনগণের শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমানোর জন্য এমন সহিংস আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান।
গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, প্রতিবাদ করা আমাদের মৌলিক অধিকার। যেটা হেফাজতের কর্মসূচিতে সারাদেশে যেসব মৃত্যু হয়েছে এগুলো পরিকল্পিত হত্যা। ওইসব ঘটনায় যারা মারা গেছেন তারা যুবক। পাকিস্তানি কায়দায় এই নতুন প্রজন্মকে স্তব্ধ করে দেয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, গত শুক্রবার ছিলো আমাদের ইতিহাসের গৌরবের দিন। সেইদিনে কিভাবে জাতীয় স্মৃতিসৌধকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে, কিভাবে ঢাকার শহরে নাগরিকদের অবরুদ্ধ করা হয়েছে, এক ধরনের হরতালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে এটাকে কেবলমাত্র মোদী ও সরকারি দলের উৎসবে পরিণত করা হয়েছে। এটা মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা, এটা স্বাধীনতার অবমাননা, এটা আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের প্রতি অবমাননা।
ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, ঢাকা, ব্রাক্ষনবাড়ীয়া, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় রাজপথ রক্তে রঞ্জিত। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে বিনাভোটের এই মাফিয়া সরকার  লাশ উপহার দিয়েছে। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে এই বিনাভোটের মাফিয়া সরকার তাদের সুখের পাত্র নরেন্দ্র মোদীকে খুশি করতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, পুলিশ লীগে দিয়ে বায়তুল মোকাররমে তাণ্ডব চালিয়েছে, একই তাণ্ডব চালানো হয়েছে চট্টগ্রামের হাটাজারিতে, ব্রাক্ষবাড়ীয়াতে…। পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী যেমন একাত্তরে গণহত্যা চালিয়েছিল, রাতের অন্ধকারে স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীতে ২৬ মার্চ ভারতীয় আধিপত্যবাদের এই গোলাম সরকারও একই গণহত্যা চালিয়েছে।
এদিকে জাতি যখন উৎসব পালনে একে অপরের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতবিনিময় করছেন, তখন সেই ব্যবস্থাটাকেও রুদ্ধ করেছে। মোদি বিরোধী বিক্ষোভ পরবর্তীতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বেশ কিছু স্থানে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ  করে দেয়া হয়। অনেক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, গতকাল রোববারও তারা ফেসবুক ও মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে পারছেন না। এ বিষয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারেরা বলছেন, বিষয়টি তাদের হাতে নেই। সরকারের হাতে ফেসবুক ডাউন করার প্রযুক্তি আছে। জানা গেছে, দেশের মুঠোফোন গ্রাহকেরা তিন ধরনের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন, ফোরজি, থ্রিজি ও টুজি। ফোরজি এবং থ্রিজি মূলত দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন যোগাযোগ অ্যাপ ও ভিডিও দেখার জন্য ফোরজি ও থ্রিজি ইন্টারনেট সেবার প্রয়োজন হয়। গত শুকবার থেকে টানা দিনদিন গ্রাহকদের অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ করেছেন। অবশ্য এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিটিআরসির দায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর