Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ৩০.৯৬°সে

স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে বদলে যাচ্ছে স্বাস্থ্য প্রশাসন

সময় সংবাদ রিপোর্ট : কোভিড-১৯ মহামারী পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক সংস্কার যে কতটা প্রয়োজনীয় তা নানা সময় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা সুস্পষ্টভাবে মত দিয়েছেন। সে তাগিদ থেকে সর্বস্তরের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতসহ স্বাস্থ্য খাতে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নতুন জনবল কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে একজন মহাপরিচালকের অধীনে ৯ জন অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং ৩৭ জন পরিচালকের পদ রয়েছে। এ ছাড়া পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে ১০ থেকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল এবং সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কার্যালয়ের জনবল কাঠামোতে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে ১০ শয্যার হাসপাতাল থেকে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। কারণ বিগত সময়ে ১০ বা ২০ শয্যার হাসপাতালগুলো এখন ৩০ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। কিন্তু জনবল কাঠামো রয়ে গেছে আগের পর্যায়ে। ফলে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হয়েছে ১০০ শয্যা, ১০০ শয্যার হাসপাতাল হয়েছে ২৫০ শয্যা এবং ২৫০ শয্যার হাসপাতাল রূপান্তরিত হয়েছে ৫০০ শয্যায়। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তার কার্যালয় এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আগের তুলনায় কার্যপরিধি বেড়েছে কয়েকগুণ। কিন্তু বিগত ৩৭ বছরে বাড়েনি জনবল। তাই প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে এ ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত জনবল কাঠামোতে অধিদপ্তরের একজন মহাপরিচালকের অধীনে ৯ জন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের পদ সৃষ্টির প্রস্তাব করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত পদগুলো হলো অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (আর্থিক ব্যবস্থাপনা), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এইচএমআইএস অ্যান্ড আইটি), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পাবলিক হেলথ), অতিরিক্ত মহাপরিচালক (হাসপাতাল ও ল্যাব সার্ভিসেস) এবং অতিরিক্ত মহাপরিচালক (উন্নয়ন)। পাশাপাশি প্রস্তাবিত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের অধীনে প্রায় ৩৭ জন পরিচালকের পদ সৃষ্টির প্রস্তাবনায় রয়েছে। যার বর্তমান পরিচালকের সংখ্যা মাত্র ১১ জন। ইতোমধ্যে জনবল কাঠামোর প্রস্তাবনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে আছে। তবে অভিযোগ রয়েছে সেখানে বাস্তবতা বিবর্জিতভাবে প্রস্তাবিত লোকবল কাটছাঁট করা হচ্ছে। ফলে শেষ পর্যন্ত কতজন থাকে, সেটি এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এর আগে বর্তমান সরকারের আমলে কয়েক দফায় প্রায় ২০ হাজার নবীন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সেই অনুপাতে তাদের পদোন্নতির পদ সৃষ্টি করা হয়নি। ডাক্তারদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখাও। ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে এবং আন্তঃক্যাডার বৈষম্য আরও প্রকট আকার ধারণ করছে। অধিদপ্তর সূত্র বলছে, সর্বশেষ ১৯৮৪ সালে এনাম কমিশনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের পদকাঠামো তৈরি করা হয়। তার পর থেকে দীর্ঘ ৩৭ বছর ধরে জোড়াতালির মাধ্যমে অপ্রতুল প্রশাসনিক কাঠামো দিয়েই স্বাস্থ্য খাতের বিপুল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে স্বল্পপরিসরে কিছু পদ সৃজন হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা ছিল অপ্রতুল।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের সর্বস্তরে জনবলের ঘাটতি রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়লেও জনবল বাড়ানো হয়নি। আগে বিশেষায়িত বিভাগ ছিল চারটি, বর্তমানে সেটি বেড়ে অর্ধশত হয়েছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলো একজন কসসালট্যান্ট দিয়ে চালাতে হচ্ছে। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনে আগের তুলনায় কাজের পরিধি অনেক বেড়েছে। এখন জেলাপর্যায়ে এপিডেমিওলজিস্ট, ইনফেকশন প্রিভেশনশন, এমআইএসের কোনো পদ ছিল না। এখন এসব পদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে নতুন জনবল কাঠামোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা সূত্রে জানা গেছে, নতুন জনবল কাঠামো মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তাব করা হচ্ছে। এতে মহামারী মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫ হাজার চিকিৎসককে শৃঙ্খলায় ফেরাতে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি হাজার হাজার হাসপাতালের মনিটরিং নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদ সৃজনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে একটি নিজস্ব প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে ইতোমধ্যে, যা অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ত্বরান্বিত এবং স্বাস্থ্যসেবা ডিজিটালাইশন করতে অতিরিক্ত মহাপরিচালক উন্নয়ন ও এমআইএস সৃষ্টির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক সমানুপাতিক হারে সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ও অন্যান্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পদ সৃজনে প্রস্তাব রয়েছে। পদসৃজনের কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হলে প্রায় এগারোশর বেশি নতুন প্রশাসনিক পদ সৃষ্টি হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয় ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পদ সৃজনের দাবি ছিল। কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের লোকবলের অভাবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে হিমশিম খেতে হয়। এ জন্য কেন্দ্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপপরিচালক সরকারি হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল, এমআইএস, অর্থ, শৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য, রোগ নিয়ন্ত্রণ ইত্যাদি পদ কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে। অন্যদিকে সিভিল সার্জন অফিসে একইভাবে প্রস্তাব করা হয়েছে একাধিক ডেপুটি সিভিল সার্জন পদ সৃষ্টির। প্রশাসনিক পদ ছাড়াও ১০, ২০, ৩১, ৫০, ১০০, ২৫০ ও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসমূহের জনবলের স্ট্যান্ডার্ড সেটআপ ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন পদসমূহের ৬০ শতাংশ অনতিবিলম্বে সৃজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৪০ শতাংশ পদ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন সাপেক্ষে সৃষ্টি করা হবে। এতে হাসপাতালসমূহে বহুমুখী সেবা নিশ্চিত হবে এবং জনগণের ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর