Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩০.৯৬°সে

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ, আজ থেকে ৭ দিনের লকডাউনে দেশ

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ করোনা মহামারি পরিস্থিতি সামাল দিতে সারা দেশে এক সপ্তাহের লকডাউন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ সোমবার ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ লকডাউন। গতকাল রোববার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে শনিবার সংক্রমণ মোকাবিলায় সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।
এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ আকারে বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে এক সপ্তাহ লকডাউন শুরুর প্রথম দিন থেকে সারা দেশে গণপরিবহন চলাচলও বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ কথা জানিয়ে বলেন, ‘গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন, জরুরি সেবা, জ্বালানি, ওষুধ, পচনশীল দ্রব্য ও ত্রাণবাহী পরিবহন, সংবাদপত্র, গার্মেন্টস সামগ্রী পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতসহ দেশের অধিকাংশ পর্যটন স্পট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য ছাড়া ইউরোপের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করে গত ১ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ইউরোপের দেশ ছাড়াও আর্জেন্টিনা, বাহরাইন, ব্রাজিল, চিলি, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, পেরু, কাতার, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও উরুগুয়ে থেকেও বাংলাদেশে আসায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে অভ্যন্তরীণ রুটেও বিমান চলাচল বন্ধ হচ্ছে।
দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যু বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতির মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৯ মার্চ ১৮ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। ৩১ মার্চ থেকে গণপরিবহনে ৫০ শতাংশ যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। ১ এপ্রিল থেকে নৌপথেও অর্ধেক যাত্রী পবিবহন কার্যকর হয়। অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখার নির্দেশনা কার্যকরে গণপরিবহনে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়।
করোনার বিস্তার ঠেকাতে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এতে বলা হয়, লকডাউনে সকল প্রকার গণপরিবহন সড়ক, রেল ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। তবে পণ্য পরিবহন উৎপাদন ব্যবস্থা জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া বিদেশগামী বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না; আইনশৃক্সখলা এবং জরুরি পরিষেবা যেমন: ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস বা জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্র বন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে; সকল সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও আদালত এবং বেসরকারি অফিস কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য সীমিত পরিসরে প্রয়োজনীয় জনবল প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় অফিসে আনা-নেয়া করতে পারবে। শিল্প-কারখানা ও নির্মাণ কার্যাদি চালু থাকবে। শিল্প কারখানার শ্রমিকদের স্ব স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেয়া করতে হবে।
বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ কর্তৃক শিল্প-কারখানা এলাকায় নিকটবর্তী সুবিধাজনক স্থানে তাদের শ্রমিকদের জন্য ফিল্ড হাসপাতাল ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে; সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ঔষধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবে বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না; খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ (Takeway/Online) করা যাবে।
কোনো অবস্থাতে হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাবার গ্রহণ করা যাবে না; শপিং মলসহ অন্যান্য দোকানসমূহ বন্ধ থাকবে। তবে দোকানসমূহ পাইকারি ও খুচরা পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে ক্রয় বিক্রয় করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বাবস্থায় কর্মচারীদের মধ্যে আবশ্যিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে এবং কোনো ক্রেতা সশরীরে যেতে পারবে না; কাঁচা বাজার এবং নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে; ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সীমিত পরিসরে চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে; সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ঢাকায় সুবিধাজনক স্থানে ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে; সারাদেশে জেলা ও মাঠ প্রশাসন উল্লেখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং আইন-শৃক্সখলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার  করবে; এই আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গেল বছর ২৩ মার্চ প্রথমবার ‘সাধারণ ছুটি’ ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। শুরুতে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ‘ছুটি’ ঘোষণা করেও পরে দফায় দফায় সেই মেয়াদ মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেসময় সব অফিস-আদালত, কল-কারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সারা দেশে সব ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ছুটির মধ্যে সবকিছু বন্ধ থাকায় সেই পরিস্থিতি ‘লকডাউন’ হিসেবে পরিচিতি পায়।
কিন্তু টানা সাধারণ ছুটির কারণে নিম্নবিত্তের জীবন-জীবিকা ও দেশের উৎপাদন ব্যবস্থা অস্তিত্ব সংকটে পড়লে বিভিন্ন মহলের দাবির মুখে সরকার ৩১ মে’র পর থেকে ধাপে ধাপে বিধিনিষেধ শিথিল করতে থাকে। বছরের শেষে এসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া আর সবকিছুতেই কড়াকড়ি উঠে যায়। করোনা পরিস্থিতি সামাল দিতে গেল বছরের ২৪ মার্চ এক ভিডিও বার্তায় ওবায়দুল কাদের ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা দেন। এরপর দফায় দফায় তা বাড়ানো হয়। জুন মাসের শুরু থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচলে সায় দেয় সরকার।
গেল বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপর টানা কয়েক মাস করোনার তাণ্ডব চলে। গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি ক্রমে শিথিল হয়ে আসতে শুরু করে। কিন্তু হঠাৎ করেই গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে করোনায় সংক্রমণ ও মৃত্যু ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এরইমধ্যে গেল ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনার গণটিকা দান কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, আঘাত হানতে পারে ২৬ মে
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
যেভাবে হজ পালন করবেন
দুবাইয়ে গোপন সম্পদের পাহাড়, তালিকায় ৩৯৪ বাংলাদেশি
সড়কে মৃত্যুর মিছিল:দশ বছরে প্রাণহানি ৭৮ হাজার,দায় নিচ্ছে না কেউ
প্রথম ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন যারা

আরও খবর