Header Border

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩৭.৯৬°সে

করোনা ভাইরাস আতংকে আবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বিশ্ব

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্টঃ  নতুন বৈশিষ্ট্যের করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বিশ্বের অন্তত ৪০টি দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাসের নতুন ধরন নিয়ে আলোচনা করতে  বুধবার সদস্যদের  নিয়ে বৈঠক করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে নতুন বৈশিষ্ট্যের এই করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তারপর তা গোটা যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। অক্টোবরে ব্রিটেনে যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের ৫০ শতাংশই এই নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসের কবলে পড়েছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে ৪৩ শতাংশ, পূর্ব ইংল্যান্ডে ৫৯ শতাংশ এবং লন্ডনে ৬২ শতাংশ নতুন সংক্রমণের পেছনে এ রূপান্তরিত স্ট্রেইন দায়ী। ইংল্যান্ডের প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা অধ্যাপক ক্রিস হুইটি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহে খুব দ্রুত এর সংক্রমণ বেড়েছে।’
করোনা ভাইরাসের নতুন এ স্ট্রেইনটির ২৩টি ভিন্ন ভিন্ন পরিবর্তন দেখা গেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধান বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা প্যাট্রিক ভ্যালান্স বলছেন, ‘অস্বাভাবিকভাবে বড় সংখ্যায় এর রূপান্তর দেখা গেছে।’ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ভাইরাসের নতুন রূপান্তরিত স্ট্রেইন (ভিইউআই-২০২০১২/০১) ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সংক্রামক হতে পারে। এটি আর নাম্বার ০.৪ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়াও  নতুন বৈশিষ্ট্যের এই করোনা ব্যাপক হারে শিশুদেরকে সংক্রমিত করছে। সে কারণেই উদ্বিগ্ন বিশ্ব। ইউরোপ, এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকার অন্তত ৪০টি দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে।
যুক্তরাজ্যে প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনার এই নতুন ধরনকে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, বুধবার তার কৌশল আলোচনা করা হয় ডব্লিউএইচওর সদস্যদের এ বৈঠকে। ডব্লিউএইচওর এক মুখপাত্র বলেছেন, তথ্য ভাগাভাগিতে সহায়তার উদ্দেশ্য নিয়ে বৈঠকটি সাজানো হয়েছে। সংস্থাটির ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যানস ক্লুজ এ সংক্রান্ত টুইটে বলেছেন, ‘আমাদের হাতে আরও ভালো তথ্য না আসা পর্যন্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভ্রমণ সীমাবদ্ধ রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।’
করোনার নতুন ধরন নিয়ে ব্যাপক ভীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটি বলেছে, এটি (নতুন ধরন) মহামারির বিবর্তনের একটি স্বাভাবিক অংশ। নতুন ধরন শনাক্ত করায় যুক্তরাজ্যের প্রশংসাও করেছে তারা।
করোনার নতুন ধরন শনাক্ত হওয়ার পর যে দেশগুলো যুক্তরাজ্যের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে; তাদের কারণে আটকা পড়েছে জরুরি পণ্যবাহী বহু গাড়ি। এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও বলেছে, খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ মালামাল সরবরাহের জন্য আটকে থাকা পণ্যবাহী সব যানবাহনকে ঢোকার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। ডব্লিউএইচওর ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যানস ক্লুজ বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের সরবরাহ ও জরুরি ভ্রমণ চালু থাকা উচিত।
এদিকে এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৮৩ জন। এই সংক্রামণের পরপরই সিডনির জনগণকে ঘরে থাকার নির্দেশ এসেছে দেশটির সরকার পক্ষ থেকে। দেশটির কর্মকর্তারা একজন ফ্লাইট সদস্যকে সন্দেহ করছেন, যিনি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সিডনিতে ফেরেন। ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরি’ (এসিটি) সিডনির বাসিন্দাদের দেয়া এক কঠোর বার্তায় বলেছে, ‘আমাদের এখানে এসো না’। যদি তারা আসে তবে অবশ্যই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিটি রাজ্য ও অঞ্চলের সীমান্তে স্বাস্থ্যবিধি জোরদার করা হয়েছে। সিডনি ও মেলবোর্ন থেকে বহু ফ্লাইট বাতিল করে হয়েছে। এবং বড় বড় শহরগুলোতে পুনরায় নুতন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আর সিডনির যে এলাকায় নতুন ক্লাস্টারটি দেখা দিয়েছে সেখানকার মানুষের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। দ্বীপরাজ্য তাসমানিয়া শনিবার থেকে একই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
এছাড়া যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন (রূপান্তরিত রূপ) এবার পাওয়া গেল হংকংয়ে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যফেরত দুই শিক্ষার্থীর শরীরে ভাইরাসটির পরিবর্তিত রূপ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে শহরটির স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার হংকংয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনস্থ সংস্থা স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেন্দ্রের সংক্রামক রোগ শাখার প্রধান ডা. চুয়াং শুক-কুয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরা দুই শিক্ষার্থীর শরীরে পাওয়া নমুনার সঙ্গে করোনার ব্রিটিশ ধরনটির মিল দেখা গেছে। তবে এ বিষয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধে তাদের তৈরি টিকার কার্যকারিতা পরীক্ষায় তৎপর হয়ে উঠেছে। করোনার নতুন ধরনের বিরুদ্ধে ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বায়োএনটেকের প্রধান গবেষক ও স্বত্বাধিকারী উগুর শাহিন। তার আগে জার্মান জার্মানির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইয়েন স্পান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন ধরনের করোনার বিরুদ্ধে এখনকার টিকা কার্যকর। ডব্লিউএইচও বলছে, টিকার কার্যকারিতার ওপর করোনার নতুন ধরনের কোনো প্রভাব আছে কি না, তা নির্ধারণের মতো যথেষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত তাদের হাতে নেই।
যুক্তরাজ্যে নতুনভাবে যে বৈশিষ্ট্যের কারণে সংক্রমণ দেখা দিয়েছে, সেটি উদ্বেগজনক বলে মনে করেন বাংলাদেশর স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রে এটি কতটুকু প্রভাব রাখতে পারে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। কিন্তু ভাইরাসটির এই রূপ যেন আমাদের দেশে প্রবেশ না করতে পারে, সেজন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নিয়ে হবে। এক্ষেত্রে যারা যুক্তরাজ্য থেকে আসছেন, তাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে হবে। সিলেটের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের যোগাযোগটা বেশি। সেক্ষেত্রে ঢাকা ছাড়াও সিলেট বিমানবন্দরে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষার সনদ ছাড়া কোনো যাত্রীকেই ওঠানো যাবে না। এমনকি কোভিড-১৯ নেগেটিভ সনদ নিয়ে এলেও তাদের আলাদাভাবে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেনটাইনে নেয়া প্রয়োজন।
কোভিড-১৯ টিকা বিতরণ ও প্রস্তুতি কমিটির অন্যতম সদস্য এবং রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, যুক্তরাজ্যে নতুনভাবে কোভিড-১৯-এর যে বৈশিষ্ট্য দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে আসলে আরও গবেষণা প্রয়োজন। এই ভ্যারিয়েন্ট বা ভ্যাকসিনের ওপরে এর প্রভাব নিয়েও আলাদাভাবে এখনই কিছু বলা ঠিক হবে না। সংক্রমণের ঝুঁকি বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকেই যাত্রী আসুক না কেন, সব ক্ষেত্রেই থাকতে পারে। এক্ষেত্রে আসলে বিমানবন্দরে বর্তমানে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যবস্থাপনা আছে, সেটিকে ঠিকভাবে পালন করতে হবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, বিদেশ থেকে আসা সব যাত্রীর কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে আছে। এক্ষেত্রে যদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ মনে করে কোনো দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করা প্রয়োজন, তবে সেটি তাদের এখতিয়ার। এক্ষেত্রে আসলে আমাদের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো কিছু বলার নেই।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী মনে করেন, নতুন এই স্ট্রেইন আসলে ভ্যাকসিনের ওপর তেমন প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। কারণ এখনো এমন মিউটেশন দেখা যায়নি যার জন্য ভ্যাকসিনে প্রভাব পড়তে পারে। এই স্ট্রেইনটি তেমন ডেডলিও না। তবে এটি খুব দ্রুত ছড়ায় বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকাতে যেটা দেখা গেছে, সেটা একদিকে যেমন বেশি ছড়ায়, অন্যদিকে তেমনই প্রাণঘাতী।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

চাহিদা অনুযায়ী অর্থ দিতে পারছে না ব্যাংক
ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’, আঘাত হানতে পারে ২৬ মে
শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
যেভাবে হজ পালন করবেন
দুবাইয়ে গোপন সম্পদের পাহাড়, তালিকায় ৩৯৪ বাংলাদেশি
সড়কে মৃত্যুর মিছিল:দশ বছরে প্রাণহানি ৭৮ হাজার,দায় নিচ্ছে না কেউ

আরও খবর