Header Border

ঢাকা, সোমবার, ২৪শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৭.৯৬°সে

জিএসপি প্লাস মূল ভরসা

সময় সংবাদ লাইভ রির্পোটঃ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে ২০২৬ সালে চূড়ান্তভাবে উত্তরণ ঘটবে বাংলাদেশের। তখন উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার গৌরবের বিপরীতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়তে হবে। পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা থাকবে না। তাতে রপ্তানি আয় ব্যাপক কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি খুবই নড়বড়ে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অর্থনীতির গতিধারা অব্যাহত রাখতে সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে জোরেশোরে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

advertisement

গত বছর বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ ১২ গন্তব্য দেশের ৭০ শতাংশ রপ্তানি বর্তমানে বাণিজ্য সুবিধার অধীনে হচ্ছে। সেই সুবিধা না থাকলে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ৫৩৭ কোটি ডলার (৪৫ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা) কমতে পারে। অবশ্য বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গতকাল বলেছে, রপ্তানি আয় ৮-১০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বছরে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের (২১ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি আয় কমবে।

advertisement

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই সংকট মোকাবিলায় সব ধরনের পণ্য রপ্তানিতে জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আগামী পাঁচ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ এলডিসির মতোই শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা পাবে। এই সময়ের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। শ্রমমান ও মানবাধিকার ইস্যুতে ২৭ শর্ত পরিপালনে সক্ষম হলে বাংলাদেশকে জিএসপি প্লাস সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)। বাংলাদেশ-ইইউ যৌথ বাণিজ্য কমিশন জিএসপি প্লাস সুবিধার বিষয়ে শিগগিরই একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। রানা প্লাজাধসের পর শ্রম অধিকার ও কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অ্যাকশন প্ল্যানের ১৬ শর্ত পূরণ হয়েছে। তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম সারির শতাধিক কমপ্লায়েন্স কারখানা স্থাপন করা হয়েছে বাংলাদেশে। এরই ধারাবাহিকতায় জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায়ে সব শর্ত পূরণ করা হবে।

উন্নয়নশীল দেশ হওয়াতে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ¦ল হওয়ার পাশাপাশি বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ঋণপ্রাপ্তি সহজ হবে। তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত।

advertisement

উদ্যোক্তাদের মতে, ইইউর বাজারে সবার আগে জিএসপি প্লাস সুবিধা আদায় করতে হবে। অন্যথায় বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি পণ্য চামড়ারও বড় বাজার ইইউ। এ ছাড়া মৎস্য, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের নানা পণ্য রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে।

জানা গেছে, পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ইইউ অব্যাহত শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম অবাধ এবং শ্রম অধিকার নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে আরও কিছু বিষয়ে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইইউর রাষ্ট্রদূত রেঞ্জি তেরেগ্ধিক। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নয়নে অগ্রগতি ধরে রাখা এবং সংশোধিত শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন।

ডব্লিউটিওর নিয়ম অনুযায়ী, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর উন্নত দেশে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা আর পাওয়া যায় না। ব্যতিক্রম হিসেবে ইইউতে এভরিথিং বাট আর্মস (ইবিএ) নামের স্কিমে বর্তমান এই শুল্কমুক্ত সুবিধা অতিরিক্ত ৩ বছর অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ ওই সময়ের পর আর ইইউর দেশে রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে না। এ কারণে জিএসপি প্লাসই এখন মূল ভরসা।

জানা গেছে, জিএসপি প্লাস সুবিধার বিষয়ে বাংলাদেশ এবং ইইউর একটি যৌথ কমিশন কাজ করবে। এই কমিশন ইইউ আরোপিত ২৭ শর্ত পরিপালনে সহযোগিতা করবে। কমিশনের উদ্যোগে একটি কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হবে। আর এক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে শ্রম মন্ত্রণালয়, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইএলও, বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য জানান, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ক্রমান্বয়ে বাণিজ্য সুবিধাগুলো হারাবে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের ‘কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি’ (ইউএন-সিডিপি) তাদের প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জন্য পাঁচটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে উল্লেখ করেছে। এগুলো হচ্ছে- অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও কয়লাভিত্তিক জ্বালানি থেকে সরে এসে দূষণমুক্ত টেকসই জ্বালানির ব্যবহার করা।

ড. দেবপ্রিয় বলেন, সরকার প্রণিতব্য কৌশলপত্রের বিভিন্ন লক্ষ্য থাকবে। একটা হবে স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এখন যেসব সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছে, উত্তরণকালীন কর্মসূচির ভেতরেও সেসব পদক্ষেপ কার্যকর রাখা। এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলেও নতুন আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সহযোগিতা যাতে পেতে পারি, সেসব বৈশ্বিক উদ্যোগ কাজে লাগানো।

এলডিসি থেকে উত্তরণের কারণে স্বল্পসুদে ঋণপ্রাপ্তি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থ পাওয়া কঠিন হবে। ওষুধশিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত্রে মেধাস্বত্ব আইন আরও কড়াকড়ি হবে। কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়া এবং নতুন শিল্পকে সমর্থন দেওয়া সীমিত করতে হবে। এ ছাড়া রাজস্ব আদায় ও বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য বাড়াতে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। আন্তর্জাতিক পরিম-লে দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে নিউইয়র্ক, জেনেভা, ব্রাসেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোয় বাংলাদেশের মিশনগুলোকে যৌথভাবে মনোযোগী হতে হবে। ব্যক্তি খাত ও বেসরকারি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এসব উদ্যোগে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর