Header Border

ঢাকা, শনিবার, ২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (গ্রীষ্মকাল) ৩৫.৯৬°সে

বেশির ভাগ সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা

*সময় সংবাদ লাইভ রির্পোটঃ বেহাল দশা দেশের সড়ক মহাসড়কের বেশীর ভাগের । মহাসড়ক যেমন তেমন জেলা সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এইচডিএম) সর্বশেষ সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সড়ক-মহাসড়কের ১৮ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে ৬ হাজার কিলোমটারই খারাপ অবস্থা।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন,বর্ষাকাল এখন তাই সড়ক মহাসড়কের মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন,সড়কে যেখানে গর্ত হবে দ্রুত তা মেরামত করতে হবে।
জানা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহীসহ অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থাও ভালো নয়। যদিও জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে জেলা সড়কগুলো। সব মিলিয়ে দেশের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক বর্তমানে ভাঙাচোরা রয়েছে। গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছর ভাঙাচোরা সড়কের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
ভাঙাচোরা এসব সড়ক-মহাসড়ক মেরামতে পাঁচ বছরে দরকার ২৫ হাজার ৯২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে আগামী অর্থবছর দরকার ১৫ হাজার ৬০৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ‘মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিহ্যাবলিটেশন নিডস রিপোর্ট অব ২০২১-২০২২ ফর আরএইচডি পেভড রোডস’ শীর্ষক সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনটি গত নভেম্বর থেকে চলতি বছর মার্চ পর্যন্ত সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ সময় সওজের অধীনে সারা দেশে ১৮ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার পাকা সড়ক-মহাসড়কের ওপর সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, বর্তমানে তিন হাজার ছয় কিলোমিটার বা ১৬ দশমিক ২৭ শতাংশ সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এর মধ্যে এক হাজার ৫২৪ দশমিক ২৯ কিলোমিটার পুওর, ৭৮৯ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ব্যাড ও ৬৯১ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার ভেরি ব্যাড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া তিন হাজার ৪৬৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়ক মোটামুটি চলনসই অবস্থায় আছে। সবমিলিয়ে ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক ৩৫ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। আর ১২ হাজার দুই দশমিক ৭৫ কিলোমিটার বা ৬৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভালো অবস্থায় আছে।
সওজের ১০টি জোনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে বরিশাল, ঢাকা, গোপালগঞ্জ ও রাজশাহী জোনের জাতীয় মহাসড়কগুলো। আর সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা জোনের মহাসড়কগুলোর। এছাড়া সিলেট ও রংপুর জোনের মহাসড়কগুলো মোটামুটি ভালো অবস্থায় রয়েছে।
তথ্যমতে, চলতি অর্থবছর সমীক্ষা চালানো জাতীয় মহাসড়কের ৬৯ দশমিক শূন্য নয় শতাংশ, আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭০ দশমিক ১২ শতাংশ ও জেলা সড়কের ৬১ দশমিক ৫৩ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। গত অর্থবছর এ হার ছিল যথাক্রমে ৬৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ৬৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ ও ৬৫ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সব মিলিয়ে গত অর্থবছর ৬৬ দশমিক ১৬ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভালো অবস্থায় ছিল।
সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবদুস সবুর বলেন, সওজের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রতি বছর সারাদেশের সব সড়ক-মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদন এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়কগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর বর্ষার আগেই এ প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়। যদিও গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে মহাসড়কে গাড়ি চলাচল করেছে অনেক কম। ফলে সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে কম। আবার এ বছর বৃষ্টি বেশি হচ্ছে। তাই ঝুঁকি একটু বেশি। এজন্য মেরামত খাতে বরাদ্দের মধ্যে কিছু অংশ জরুরি ভিত্তিতে দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়কগুলো মেরামতে ২০২১-২২ অর্থবছর বরাদ্দ দরকার ১৫ হাজার ৬০৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সাত হাজার ৭১২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। আর পরবর্তী চার অর্থবছর (২০২২-২৩ থেকে ২০২৫-২৬) বরাদ্দ লাগবে যথাক্রমে তিন হাজার ৪৫৮ কোটি ৬৫ লাখ, দুই হাজার ৬১২ কোটি ৮৭ লাখ, দুই হাজার ৩৭৯ কোটি ৭৬ লাখ ও এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক-মহাসড়ক মেরামতে কোনো বছরই প্রয়োজন অনুপাতে বরাদ্দ পায় না সওজ। দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে কোনো রকমে মেরামত কাজ চালানো হয়। এতে সড়কগুলোর বড় অংশই ভাঙাচোরা থেকে যায়। তার ওপর বৃষ্টির প্রভাব তো রয়েছেই।
যদিও শুধু অর্থ ব্যয় করেই সড়ক-মহাসড়কের অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. সামছুল হক। তিনি বলেন, এদেশে সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ধরনটা খুব খারাপ। প্রতি বছর বর্ষার পর রাস্তা সংস্কারে যেতে হয়। পৃথিবীর আর কোথাও এ সংস্কৃতি নেই। সেখানে ১০-১২ বছর পর সংস্কার হয়। তবে এ দেশে বছর বছর মেরামত খাতে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। যদিও কাজের কাজ কিছু হচ্ছে না। কারণ দুটিÑজলাবদ্ধতা ও ওভারলোডিং। এ দুটোকে বন্ধ করতে হবে। এটা করা খুব সহজ। তা না হলে যতই অর্থ ব্যয় করা হোক কোনো সুফল মিলবে না।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার
উপজেলায় এমপি মন্ত্রীর সন্তান-স্বজনরা প্রার্থী হলে ব্যবস্থা
সব বিরোধী দলের উপজেলা নির্বাচন বর্জন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
৯৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আবেদন শুরু, যেভাবে করবেন আবেদন
মুজিবনগর দিবসে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আরও খবর