Header Border

ঢাকা, বুধবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

সংঘাত এড়িয়ে ঢাকায় বড় জমায়েত চায় বিএনপি

সময় সংবাদ রিপোর্ট :  সব ধরনের সংঘাত এড়িয়ে আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বড় জমায়েত ঘটাতে চায় বিএনপি। ৯ বিভাগীয় গণসমাবেশ শেষ করার পর, প্রত্যাশা অনুযায়ী জমায়েত ঘটিয়ে দেশে ও বিদেশে সাংগঠনিক শক্তি জানান দিতে চায় দলটি। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, স্মরণকালের এই মহাসমাবেশ আগামীদিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ নানা দাবিতে চলমান আন্দোলনে গতি আনতে নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। বিএনপির দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘আমরা কোনো সংঘাত চাই না। শান্তিপূর্ণভাবে রাজধানীতে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় একটি মহাসমাবেশ করতে চাই। এখান থেকে আমাদের পরবর্তী করণীয় ঘোষণা করা হবে।’ ঢাকাসহ বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিএনপির এ নীতিনির্ধারক বলেন, ‘এই সমাবেশ-মহাসমাবেশ করার একমাত্র কারণ হচ্ছে আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করা। কিছুদিন আগে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি করেছি। সেখান থেকে এখন বিভাগীয় সমাবেশ করছি।’

তবে ঢাকার সমাবেশ নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মাঝে নানা শঙ্কা কাজ করছে। গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রাম ও ১৫ অক্টোবর ময়মনসিংহের গণসমাবেশে যেসব প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করতে হয়েছে, অন্য বিভাগের চেয়ে ঢাকার সমাবেশে তার চেয়ে বেশি বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করতে হবে। এ অবস্থায় সামনের কর্মসূচিগুলো কতটা শান্তিপূর্ণভাবে করা যাবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সংশয় আছে। কারণ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে যেভাবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে তা সরকারকে চাপে ফেলেছে বলে তারা মনে করেন। এ অবস্থায় বক্তব্য-বিবৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নেতাদের সবাইকে শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বিশেষ করে ঢাকায় ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে সামনে রেখে দলের সম্প্রতি কয়েকজন নেতার রাজনৈতিক বক্তব্যে নিয়ে বিএনপির ভেতরে ও বাইরে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য বিএনপির চলমান আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে- এমন শঙ্কা থেকে বক্তব্য দেওয়া নেতাদেরও সতর্ক করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের বিভাগীয় সমাবেশের জমায়েত দেখার পর সরকারের মন্ত্রী-এমপির বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে, তারা ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় আছে। এ কারণে ক্ষমতাসীনরা কর্মসূচি পণ্ড করতে অজুহাত খুঁজতে পারেন অথবা বিএনপিকে সহিংস করে তোলার উসকানি দিতে পারেন। সেই ব্যাপারে বিএনপি সতর্ক ও সজাগ রয়েছে।

দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বলেন, বিগত সময়ে দেখা গেছে, বিএনপি হরতাল ডাকলে ক্ষমতাসীনরা পরিবহন মালিকদের গাড়ি চালাতে বাধ্য করে, আবার সমাবেশ ডাকলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি ময়মনসিংহ সমাবেশের আগে তা-ই দেখা গেছে। বিএনপি নেতাদের ধারণা, অবশিষ্ট বিভাগীয় গণসমাবেশ ও ঢাকার মহাসমাবেশের আগের দিন গণপরিবহন বন্ধ করা হতে পারে, বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা পথে পথে বাধার সম্মুখীন হতে পারে, রাজধানীর আবাসিক হোটেলসহ সর্বত্র কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে। এই বিষয়গুলো দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মাথায় আছে। সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

খুলনা বিভাগীয় গণসমাবেশের প্রধান উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, সরকারের সব অপকৌশল মানুষ বুঝে গেছে। অনেক মানুষ আছে সভা-সমাবেশের কথা শুনলেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে চলে আসে। এই অবস্থায় কোনো বাধাই সাধারণ নেতাকর্মীদের থামিয়ে রাখতে পারবে না। ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের গণসমাবেশ এর বড় উদাহরণ।

দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা সমাবেশের আগে আরও সাতটি বিভাগীয় সমাবেশ করবে বিএনপি। চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের শঙ্কা মাথায় রেখেই এসব সমাবেশ সফল করতে দলের পৃথক টিম কাজ করছে। এ ছাড়া মহাসচিব দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে যুক্ত থাকায়, তাকে এসব থেকে মুক্ত রাখতে বেশ কয়েকটি বিভাগীয় সমাবেশে তার পরিবর্তে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের প্রধান অতিথি করা হয়েছে।

দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে জানা যায়, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ২২ অক্টোবর খুলনা সমাবেশ এবং ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির নেতাদের মধ্যে ২৯ অক্টোবর রংপুরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ৫ নভেম্বর বরিশালে মির্জা আব্বাস, ১২ নভেম্বর ফরিদপুরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ১৯ নভেম্বর সিলেটে গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম খান প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে যোগ দেবেন।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর