Header Border

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ (বর্ষাকাল) ২৮.৯৬°সে

সুলতান রাজিয়া ও বঙ্গরত্ন শেখ হাসিনা ৮০০ বছর ইতিহাসে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিচক্ষণ মুসলমান নারী রাষ্ট্রনায়ক

আলমগীর পারভেজ : পৃথিবীর ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী একটি নাম সুলতানা রাজিয়া। তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের প্রথম নারী শাসক। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন দক্ষ সৈনিক হিসেবে তার ছিল সুখ্যাতি। সুলতানা রাজিয়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১২০৫ সালে। দৃপ্ত কঠিন ক্ষণজন্মা এই নারীর জীবন প্রদীপ নিভে গিয়েছিল ১২৪০ সালে। রাজকার্য পরিচালনার জন্য নামের আগে সুলতানা না হয়ে সুলতান হওয়াই হয়তো যুক্তিযুক্ত ছিল। সুলতানা রাজিয়ার বাবা শামস-উদ-দীন ইলতুিমশ ছিলেন দিল্লির সুলতান। ১২১০ সাল থেকে ১২৩৬ সাল পর্যন্ত সুলতানি আমলে ইলতুিমশ নিজেও একজন দক্ষ শাসকের খ্যাতি অর্জন করেন। বিভিন্ন অঞ্চলের বিক্ষোভ, বিদ্রোহ দমন করা ছিল তার কাজ। মৃত্যুর আগে নিজের উত্তরাধিকারী মনোনয়নের বিষয়ে সুলতান ইলতুিমশ চিন্তায় পড়ে যান। কারণ ইতিমধ্যে তার বড় ছেলে নাসিরুদ্দিন মাহমুদ মারা গেছেন। সুলতান নিজ সন্তানদের মধ্যে নাসিরুদ্দিনের ওপর বেশি ভরসা করতেন। বাকি যে দুই ছেলে আছেন তাদের কেউই সিংহাসনে বসার যোগ্য ছিলেন না। এমন অবস্থায় চিন্তায় পড়ে গেলেন সুলতান। এরই মধ্যে তার জ্যেষ্ঠ মেয়ে রাজিয়া বেশ বুদ্ধিমতী, চৌকস, প্রজাপ্রীতি ও যুদ্ধকৌশল শিখে গেছেন। তখন রাজ্য চালানোর দায়িত্ব মেয়ে সুলতানার ওপর দিয়ে নির্ভার।

১২৩৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজিয়া সুলতানা সিংহাসনে বসেন। রাজিয়া একজন বিচক্ষণ ও দক্ষ শাসক ছিলেন। তার সময়ে দাসবংশের শাসনকাল খুব সুদৃঢ় হয় এবং রাজ্যের সর্বত্র শান্তি ও নিরাপত্তা বিরাজ করে। তার সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে উন্নতি সাধিত হয়। তিনি যাতায়াতের সুবিধার্থে রাস্তা-ঘাট নির্মাণ করেন। রাস্তার দুই পাশে বৃক্ষ লাগানো হয় এবং পানি সরবরাহের জন্য অসংখ্য কুয়ো খনন করা হয়। তিনি সাহিত্যিক, শিল্পী ও কারিগরদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তার শাসনামলে সঙ্গীত ও চিত্রকলারও প্রভূত বিকাশ সাধিত হয়। রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বিদ্যোৎসাহী ছিলেন এবং নারীদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। তিনি কবি ছিলেন এবং কুরআন পাঠ করতে পারতেন।
রাজিয়া সুলতানা অন্তঃপুরিকা ছিলেন না। তিনি প্রকাশ্য দরবারে রাজকীয় পোশাক পরিধান করে সিংহাসনে আরোহন করতেন। তিনি কোন ঘোমটা ব্যবহার করতেন না। পুরুষের বেশে তিনি আলখাল্লা এবং পাগড়ি পরে জনসম্মুখে আসতেন। তিনি সভাসদ, আমির-ওমরাহদের রাজ্য শাসন প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতেন এবং তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে আইন বা নির্দেশ জারি করতেন। তিনি দক্ষ অশ্বারোহী ছিলেন এবং বর্ম ও শিরস্ত্রাণ পরে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করতেন। দুর্ভাগ্যবশত রাজিয়া সুলতানার খোলামেলা রাজকীয় আচার-আচরণ রক্ষণশীল আমিরগণ মোটেই পছন্দ করতেন না। তিনি খুবই উদার ও জনদরদি শাসক ছিলেন। তিনি হিন্দুদের ওপর অর্পিত বর্ধিত কর বিলোপ করেন; কিন্তু তার এই পদক্ষেপ অনেক আমির মোটেও পছন্দ করেননি।
১২৩৬ সাল থেকে ১২৪০ সাল পর্যন্ত মোট চার অথবা সাড়ে চার বছর রাজিয়া ভারতবর্ষ শাসন করেছিলেন। ভারতবর্ষের সমৃদ্ধ ইতিহাসের ভিড়ে এই সময়টুকুর কথা হয়তো তেমন আলোচনাতেই আসতো না। কিন্তু সম্রাজ্ঞী রাজিয়া সুলতানা নিজ যোগ্যতাবলেই এই সময়টুকুকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পেরেছিলেন। ভারতবর্ষের প্রথম নারী সুলতান হিসেবে অবশ্যই তিনি নিজেকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করছেন। কারণ একজন নারী হিসেবে তিনি যে সময় সিংহাসনে বসেছিলেন, সে সময় তা কল্পনাও করা যেতো না। ইসলাম ও ভারতবর্ষের ইতিহাসে যে কয়জন নারী খুব বেশি আলোচিত হন, রাজিয়া সুলতানা তাদের মধ্যে অন্যতম, যিনি শুধুমাত্র নিজ যোগ্যতাবলে ভারতবর্ষের পরাক্রমশালী সব রাজা, মহারাজা, বাদশাহ আর সম্রাটদের পাশে নিজের অবস্থান গড়ে নিতে পেরেছিলেন। আর তাই ভারতবর্ষের শাসকদের তালিকায় আজও তার নামটি নক্ষত্রের মতই জ্বলজ্বল করছে।
অন্যদিকে পৃথিবীর ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টিকারী আরেকটি নাম শেখ হাসিনা। জন্ম ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭।
শেখ হাসিনা’র পিতার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। মা ফজিলতুন্নেসা মুজিব। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে শেখ হাসিনা সবার বড়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে এবং পরে বিভিন্ন সময়ে বাঙালি জাতিকে শৃংখল মুক্ত করার জন্য এবং একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বাংলার জনগণের অধিকার আদায় করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় ১৩ বছর কারাবরণ করেছেন। ১৯৬৯ সালে তিনি বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। সাত কোটি বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল ছিলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতি দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেন। দেশটির নাম হয় বাংলাদেশ।
বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশের বাহিরে অর্থাৎ বিদেশের মাটিতে শেখ হাসিনা তার স্বামী ডঃ ওয়াজেদ আলী মিয়ার সাথে থাকার ফলে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা দুই বোন বেঁচে যান। দেশের বাইরে যাওয়ার পূর্বে শৈশব ও কৈশোরে তার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান এর রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আদর্শে উৎসাহিত হয়ে ছাত্রজীবন থেকে পিতার আদর্শ বুকে ধারণ করে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং তৎকালীন এই পৃথিবীতে দরজাল হিসেবে পরিচিত রক্তপিপাসু পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক সরকার স্বৈরাচার আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন।
দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করে সমগ্র বাংলার জনগণকে যে শিকল পড়ানো হয়েছিল ১৯৯৬ সালে বাংলার জনগনের ম্যান্ডেট নিয়ে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর, সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে বাংলার জনগণকে শৃংখল মুক্ত করেছিলেন। যখন এই বাংলার জনগণকে শৃংখল মুক্ত করা হয়েছিল তখন একটি কুচক্র বিভিন্ন প্রকার কৌশল অবলম্বন করে দীর্ঘ সাত বছর অর্থাৎ ২০০১ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এ জাতিকে পুনরায় শিকল পরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু শৃংখল মুক্ত হওয়া যে কতটা আনন্দের, বাংলার জনগণ বুঝতে পেরেছিল। ২০০১-২০০৭ সাল পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে রাজপথে থেকে যে পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল, তার ফলশ্রুতিতে তৎকালীন সামরিক সরকার বাধ্য হয়ে সঠিক নির্বাচন দিয়েছিলেন।
যে নির্বাচনে গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ইতিহাসের পূর্ণ জাগরণের জন্য এবং সঠিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বার্থে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ” সরকার’ প্রতিষ্ঠা করেন।যার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব ছিল গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা’র।
ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনা’র মেধা, যোগ্যতা, দূরদর্শিতা,ও সঠিক রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দক্ষতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার থাকার ফলে একটি জাতি অতি অল্প সময়ে কিভাবে সমগ্র বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, তার প্রমাণ দিয়েছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
সঠিক এবং সৎ উদ্দেশ্য থাকলে কারো কাছে সাহায্য চাওয়ার প্রয়োজন নেই কিংবা মাথানত করার প্রয়োজন নেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বারবার প্রমাণ করেছেন । তার জলজ্যান্ত উদাহরণ স্বপ্নের পদ্মা সেতু। স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে।
আধুনিকতার সাথে প্রতিযোগিতা এসে আলাদাভাবে আইসিটি মন্ত্রণালয় গড়ে চলেছেন । বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং সারা বাংলাদেশে আইটি ভিলেজ এবং আইটি পার্ক স্থাপন করেছেন। সারা বাংলাদেশ প্রত্যেকটি স্কুলে পর্যায়ক্রমে শেখ রাসেল ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে সমগ্র বাংলাদেশের এমনকি অজয় পাড়াগাঁয়ের স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরাও আজ আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছেন। আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে দেশের যুবসমাজ দেশ-বিদেশের কাজ এখন ঘরে বসেই করতে পারছেন।
মংলা ও পায়রা বন্দর সহ সমগ্র দেশে রাস্তাঘাট, কল -কারখানা বিদেশি বিনিয়োগ এর মাধ্যমে বেকার যুব সমাজকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।
সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা সঠিক রাষ্ট্র পরিচালনার ফলে আজ সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ শুধু মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়নি বরং সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।
মোগল সাম্রাজ্য থেকে শুরু করে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সরকার ব্যতীত পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রনায়ক এর অধীনে একাধারে ৫৬০ টি আধুনিক মসজিদ নির্মিত হয় নাই।
রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা প্রতিদিন আল কোরআন পাঠ করেন।
রাষ্ট্রীয়ভাবে দেশের কওমি মাদ্রাসাকে উচ্চমর্যাদা স্বীকৃতি দেন। এর ফলশ্রুতিতে সমগ্র বাংলার লক্ষাধিক মাওলানাগন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে “কওমি জননী” উপাধিতে ভূষিত করেন। পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রনায়ক কে লক্ষাধিক মাওলানা “কওমি জননী” উপাধি দেন নাই। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও দূরদর্শিতার ফলে সম্ভব হয়েছে।
সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ানমার হতে প্রায় ১৫ লক্ষ শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। সকল জনগণের অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান এর ব্যবস্থা করার ফলে ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক থেকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’কে মাদার অফ হিউম্যানিটি উপাধি ভূষিত করেছেন।
বর্তমানে সারাবিশ্বে ৩২ কোটি বাঙ্গালীর অহংকার রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা।
একটা সময় ছিল যখন বিশ্বে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী থেকে শুরু করে যে সকল নারী নেতৃত্ব/রাষ্ট্রনায়ক প্রশংসিত হয়েছিলেন, তাদের সাথে সুলতান রিজিয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছিল।
যুগে যুগে পৃথিবীর বুকে যে সকল সফল নারী ও পুরুষ রাষ্ট্রনায়ক আসবেন, তাদের সাথে একসময় শুধুমাত্র সুলতান রাজিয়া নয়; সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’র সাথে তুলনা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

আরও পড়ুন

হজে গিয়ে ১০ বাংলাদেশির মৃত্যু
কর ও ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বে
ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা হিজবুল্লাহর
ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে সব দেশের প্রতি আহ্বান জাতিসংঘের
মোদি না রাহুল, কে হচ্ছেন ভারতের কান্ডারি?
ঢাকার কাছেই চলে এসেছে সবচেয়ে বিষধর রাসেলস ভাইপার

আরও খবর